নুরুল আমিন মিন্টু, চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রামে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে জাল টাকা। ঈদকে সামনে রেখে জাল টাকা বাজারে ছড়ানো হচ্ছে। ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ১০০ টাকার নোটের পাশাপাশি ৫০০ ও ১০০০ টাকার জাল নোট। বড় বড় ঈদ মার্কেটে জাল টাকার নোট ছড়ানের চেষ্ট করছেন সক্রের সদস্যরা। নতুন নতুন কৌশলে জাল টাকার চক্রগুলো বাজারে এখন ভীষণ সক্রিয়। অনলাইনে জাল টাকার নোট বিক্রি করা হচ্ছে। জাল টাকা ব্যবাসায়ীদের গ্রুপ আছে। ওই গ্রুপের সবাই জালনোটের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

এসব জাল টাকার নোট দেশের পাশাপাশি বিদেশেও তৈরি হয়। ভারত থেকে সীমান্ত দিয়ে বিপুল পরিমাণ জাল টাকার নোট ঢুকছে। তবে দেশের বিভিন্ন জেলায়ও তৈরি হচ্ছে জাল টাকা। ভারত ছাড়াও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিক জাল টাকা আনছে ও তৈরি করছে। প্রতারক চক্রের অনেকেই একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছে পুলিশের কাছে। কিন্তু জামিনে বেরিয়ে তারা কৌশল পাল্টে করছেন জাল টাকার ব্যবসা।

রোজার শুরু থেকে গত ১৭ দিনে তিনটি অভিযানে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) রাতে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে জাল টাকাসহ আব্দুর রহিম বিপ্লব (২২) নামে এক যাত্রীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ঈদকে সামনে রেখে এসব জাল টাকা বাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন ওই যাত্রী। গ্রেফতার বিপ্লব ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার ধুলিরকান্দা এলাকার বাসিন্দা। গ্রেফতারের পর ওই যুবকের কাছ থেকে ৪৭টি ১০০ টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ওসি শহীদুল ইসলাম জানান, গ্রেফতার ওই যুবক চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে চড়ে কক্সবাজার যাচ্ছিলেন। তার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায়। তার নানা রেলওয়েতে চাকরি করেন। সেই সুবাদে তার পরিবার ময়মনসিংহের রেলওয়ে স্টাফ কলোনি এলাকায় থাকেন। রাতে পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটি দোহাজারী স্টেশন পার হওয়ার পর তাকে জালনোটসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করে পুলিশ।

‘গ্রেফতারের পর বিপ্লব আমাদের জানিয়েছে, ঈদকে সামনে রেখে জালনোটগুলো বাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল সে। সে পেশায় একজন ছাত্র। তার মোবাইল আমি চেক করেছি। তাদের একটি গ্রুপ আছে। ওই গ্রুপের সবাই জালনোটের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আমরা বিষয়টি আরও তদন্ত করছি। তার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।’Ñ বলেন ওসি শহীদুল ইসলাম।

১১ মার্চ চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী থানাধীন সিগনাল কলোনি তিন নাম্বার রেলগেট থেকে ফরহাদ হোসেন নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে ৮৯ হাজার জাল টাকা জব্দ করা হয়। ফরহাদ পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া থানার গোরামী বাড়ির ছিদ্দিক গোরামীর ছেলে।

পাহাড়তলী থানার ওসি বাবুল আজাদ জানান, জাল টাকার খবরে পুলিশের একটি দল সিগনাল কলোনি তিন নাম্বার রেলগেট সড়কে অবস্থান নেয়। এ সময় এক যুবকের গতিবিধি সন্দেহ হলে তার গতিরোধ করা হয়। ওই যুবকের কাঁধে থাকা থেকে ৮৯ হাজার জাল টাকা জব্দ করা হয়। ওসি বলেন, ঈদকে সামনে রেখে একটি চক্র জাল নোট বাজারে চালিয়ে প্রতারণা করে। সেই চক্রের সদস্য ফরহাদ। তার বিরুদ্ধে মামলা করে তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

২ মার্চ চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া বাজারে সেনাবাহিনী ও লোহাগাড়া থানা-পুলিশের যৌথ অভিযানে জাল টাকার নোটসহ শাহ আলম (৩৫) নামের এক যুবক গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার শাহ আলম একই উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব হাজারবিঘা এলাকার ফেরদৌস আহমদের ছেলে। গ্রেফতারের পর তার কাছ থেকে ৫০০ টাকার ১০টি ও ১ হাজার টাকার ৬টি জাল নোট উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, শাহ আলম ও তার স্ত্রী জান্নাত আরা মিলে জাল নোটের ব্যবসা করে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেন। ২০২৩ সালেও তারা দুজন জাল নোটসহ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শাহ আলমকে গ্রেফতার করা হয়।

লোহাগাড়া থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, জাল নোট ব্যবসায়ীদের একটি চক্র আছে। শাহ আলম ও তাঁর স্ত্রী ওই চক্রের সদস্য। ২০২৩ সালেও তাঁরা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তাঁরা এখনো ওই চক্রের সঙ্গে আছেন এবং জাল টাকা সংগ্রহ করে বাজারে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। কয়েক মাস আগেও শাহ আলমের স্ত্রী জান্নাত আরা জাল টাকাসহ জনতার হাতে আটক হন। তখন পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। এখন জান্নাত আরার সন্ধান করছে পুলিশ।