মুন্সিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন হিমাগারে সংরক্ষিত আলুর অস্বাভাবিক দর পতনের কারণে চরম সংকটে পড়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। বাজারে আলুর দাম উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কমে যাওয়ায় সংরক্ষণ করা আলু বিক্রি করতে না পেরে বাধ্য হয়ে তা গো খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন অনেক কৃষক।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মুন্সিগঞ্জে আলুর উৎপাদন হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি। কিন্তু চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি হওয়ায় এবং সংরক্ষণ ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাজারে আলুর দাম আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি আলু পাইকারি বাজারে ৪ থেকে ৫ টাকায় বিক্রি হলেও উৎপাদন ও হিমাগার ভাড়া মিলিয়ে কৃষকের খরচ পড়েছে ১৫ থেকে ১৮ টাকা।

মুন্সিগঞ্জ টুংগী বাড়ি উপজেলার এক আলু চাষি বলেন, “হিমাগারে আলু রাখতেই বস্তা প্রতি ৩০০ টাকা খরচ হয়েছে। এখন সেই আলু বিক্রি করলে পাওয়া যায় বস্তা প্রতি ২০০ টাকা থেকে ২২৫ টাকা তো মূলধনই উঠছে না। তাই অনেকেই গরুকে খাওয়াচ্ছে।” হিমাগার মালিকদের অভিযোগ, কৃষকরা আলু তুলছেন না বলে হিমাগারে জায়গা সংকট দেখা দিচ্ছে এবং বকেয়া ভাড়াও আদায় হচ্ছে না। এতে তারাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, অতিরিক্ত উৎপাদন, বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং সংরক্ষণ পরবর্তী বিপণন পরিকল্পনার অভাবের কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। কৃষকদের ক্ষতি কমাতে সরকারি পর্যায়ে আলু রপ্তানি ও প্রক্রিয়াজাতকরণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। স্থানীয় কৃষকরা দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং ভবিষ্যতে উৎপাদন পরিকল্পনা বাস্তবভিত্তিক করার দাবি জানিয়েছেন।