গাজীপুরের টঙ্গী ইজতেমা ময়দান শুক্রবার থেকেই আবারও পরিণত হয়েছে তাবলীগ জামায়াতের পুরানা সাথীদের আধ্যাত্মিক মিলনমেলায়। ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মুসল্লিদের ঢল নেমে আসায় পুরো মাঠে সৃষ্টি হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার মতো পরিবেশ। দাওয়াত, তালীম, আত্মগঠন ও আগামী বছরের দাওয়াতি দিকনির্দেশনা পাওয়ার উদ্দেশ্যে আয়োজিত ৫ দিনের এ জোড় ইজতেমাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আগ্রহের জোয়ার বইছে।

তাবলীগ জামায়াত বাংলাদেশ শুরায়ী নেজামের মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান জানান, দেশের ৬৪ জেলা থেকে প্রায় দুই লাখ পুরানা সাথী ও ওলামায়ে কেরাম ইতোমধ্যে ময়দানে এসে পৌঁছেছেন। তিনি বলেন,

তাবলীগের সৌন্দর্য বড় আয়োজন নয়; ইখলাস, খেদমত ও দাওয়াতি ত্যাগই এই কাজের প্রাণ।

জোড় ইজতেমায় অংশ নিচ্ছেন মূলত তিন চিল্লা সম্পন্ন সাথী ও সময় লাগানো ওলামায়ে কেরাম। গত বছরের কারগুজারি পেশ এবং নতুন বছরের মেহনতের দিকনির্দেশনা গ্রহণ করা এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

প্রতিটি খিত্তায় চলছে দাওয়াত, তালীম ও নসিহত; পাশাপাশি নগদ চিল্লার জামাত গঠনের প্রস্তুতিও চলছে।

এবারের জোড় ইজতেমায় ১৯টি দেশ থেকে ৭০০ জন বিদেশি মেহমান অংশ নিয়েছেন। তাদের জন্য ভাষাগত তালীম থেকে শুরু করে আবাসন ও নিরাপত্তাসহ সব ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

আরও এক মুসল্লিসহ মৃত্যু,৩ জন

এদিকে ইজতেমা চলাকালে আরও এক মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল তিনজনে। বিষয়টি শনিবার দুপুরে নিশ্চিত করেন শুরায়ী নেজামের মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান।

মৃত মুসল্লিরা হলেন- আশরাফ আলী (৬০), জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া গ্রামের বাসিন্দা। শুক্রবার রাত ৪টা ১০ মিনিটে ঘুমন্ত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নূর আলম (৮০), নোয়াখালী সদর এলাকার বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৪টায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

চাঁন মিয়া (৬০), জামালপুরের সরিষাবাড়ীর বাসিন্দা। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় স্ট্রোক করে তার মৃত্যু হয়।

আগামী ২ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার মোনাজাতের মাধ্যমে এ বছরের ৫ দিনের জোড় ইজতেমা সম্পন্ন হবে।