তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ‘আমরা এমন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত চাই না, যেখানে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়। আমরা এমন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত চাই না, যেখানে জনগণের মুখোমুখি হয়ে উত্তর দেওয়ার সাহস থাকবে না, সদুত্তর দেওয়ার সাহস থাকবে না। কাজেই আমরা ব্যক্তি বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে, দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে, দেশের স্বার্থে গণভোটকে “হ্যাঁ” বলব।
গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে ঢাকার সাভারের রেডিও কলোনি এলাকায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে প্রচারণামূলক কার্যক্রম ‘ভোটের রিকশা’র উদ্বোধন শেষে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এসব কথা বলেন।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘গণভোট হচ্ছে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্ন, এখানে দলীয় বা ব্যক্তিগত স্বার্থ দেখলে চলবে না। জাতীয় স্বার্থে যদি আপনি “হ্যাঁ” বলেন, তাহলে দেশ কিন্তু জিতে যাবে। যদি দেশ জিতে যায়, আমরা সকলে জিতে যাব। স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ থেকে মোটাদাগে যেটা আমরা মনে করেছি ক্ষমতার ভারসাম্য, জনগণের ক্ষমতা, সুশাসন নিশ্চিত করা, বিচারব্যবস্থাকে স্বাধীন করা ও নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। সেগুলোর একটা প্রশ্নমালা করে গণভোটে দেওয়া হয়েছে। আমরা মনে করি যে “হ্যাঁ” ভোটে সিল দিলে সংস্কারগুলো যখন হবে, তখন দেশের জনগণ প্রকৃত অর্থে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করতে পারবে।
গণভোটে পৃথকভাবে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সুযোগ না রাখা প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশের অনেক সাধারণ মানুষ আছেন, যাঁরা এই সব কটা প্রশ্ন পড়ে “হ্যাঁ” বা “না” বলতে পারবেন না। ফলে একটা প্রশ্ন একটা পুরো কাঠামোর মধ্যে আমরা এগুলো বারবার তাদের বোঝাচ্ছি। সব প্রস্তাবকে সার্বিকভাবে ইতিবাচক ধরে নিয়ে আমাদের “হ্যাঁ” বা “না” বলতে হবে।
ভোটের রিকশা প্রসঙ্গে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে ভোটের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য, মানুষকে ভোটদানে উৎসাহিত করার জন্য আমরা প্রতিটি ইউনিয়নে একটা করে ভোটের রিকশার ব্যবস্থা করেছি। ভোটের রিকশাগুলোতে মাইকিং হবে। জনগণকে সাধারণ নির্বাচন ও গণভোটে একই সঙ্গে নির্ভয়ে, স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানানো হবে।’