এনডিটিভি : যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিখোঁজ হওয়ার কয়েক দিন পর ভারতীয় শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর কয়েক দিন আগে থেকেই সাকেত শ্রীনিবাসাইয়া নামের ২২ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থীর আচরণে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছিল। তাঁর রুমমেট জানান, তিনি খাওয়াদাওয়া এবং কথা বলা কমিয়ে দিয়েছিলেন। এমনকি গোসলের পোশাক পরেই ক্লাসে চলে গিয়েছিলেন, যা ছিল তার মানসিক বিপর্যয়ের স্পষ্ট লক্ষণ। সাকেতের রুমমেট বনীত সিং পেশাজীবীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইনে এক পোস্টে লিখেছেন, ৯ ফেব্রুয়ারি নিখোঁজ হওয়ার আগের প্রায় দুই সপ্তাহ সাকেত শুধু চিপস আর কুকিজ খেয়ে বেঁচে ছিলেন।
বনীত সিং লেখেন, ‘আন্তর্জাতিক ছাত্র হিসেবে জীবনটা সত্যিই কঠিন। শেষ দুই সপ্তাহের আগে সাকেতের মধ্যে কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ ছিল না। তিনি খাওয়া, কথা বলা ও ঘুম কমিয়ে দিয়েছিলেন। ২১ জানুয়ারি তিনি আমাকে লেক আনজাতে যাওয়ার জন্য ডেকেছিলেন; কিন্তু আমি আলসেমি করে যাইনি। আমি জানতাম না, সেখানেই তিনি নিজের জীবন শেষ করে দেবেন।’
উদাসীনতাই ছিল বিপদের সংকেত: বনীত মনে করেন, একদিন সাকেত লাল রঙের একটি বাথরোব পরে ক্লাস থেকে ফিরে বলেছিলেন, ‘আমি পরোয়া করা ছেড়ে দিয়েছি বন্ধু। আমার খুব শীত করছে এবং কে কী ভাবল তাতে আমার কিছু যায় আসে না।’ বনীত তখন এটাকে মজা ভেবে হেসেই উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনি লিখেছেন, ‘তিনি সব সময় এমন মজার কিছু করতেন। এখন বুঝতে পারছি, তিনি কথাগুলো গুরুত্ব দিয়েই বলেছিলেন। জীবনের বিপরীত শব্দ মৃত্যু নয়; বরং উদাসীনতা—সবকিছুর প্রতি মায়া ত্যাগ করা। আর সেই উদাসীনতাই তাঁকে নিজের জীবনের প্রতিও বেপরোয়া করে তুলেছিল।’
বনীত এখন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন যাতে সাকেতের পরিবার জরুরি ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আসতে পারে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাকেত ছিল বনীতের এমন এক বন্ধু, যাঁর সঙ্গে তিনি খাওয়া, ঘোরাফেরা ও হাসি-ঠাট্টায় সময় কাটাতেন।