প্রচণ্ড গরমে হাঁসফাঁস করছে জনজীবন। ভ্যাপসা গরম আর তীব্র রোদের মধ্যে স্বস্তি খুঁজতে মানুষ ভিড় করছেন দেশীয় মৌসুমি ফল তালের শাঁসের দোকানে। যশোর শহরের আব্দুর রাজ্জাক কলেজগেট, সার্কিট হাউজ মোড়, নিউ মার্কেট, চারখামবার মোড় বেজপাড়া , চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় এখন চোখে পড়ছে সারিবদ্ধভাবে তালের শাঁস বিক্রির দৃশ্য। সকাল থেকে রাত আটটা পর্যন্ত সমানতালে চলছে বেচাকেনা।
স্বচ্ছ সাদা রঙের নরম এই শাঁস গরমে শরীরকে শীতল রাখার পাশাপাশি পানির তৃষ্ণা মেটাতে বেশ কার্যকর বলে মনে করছেন ক্রেতারা। ফলে ছোট-বড় সব বয়সী মানুষের কাছেই এখন তালের শাঁসের কদর বেড়েছে। অনেক জায়গায় ক্রেতাদের সিরিয়াল দিয়েও কিনতে দেখা গেছে।
বিক্রেতারা জানান, প্রতি পিস তালের শাঁসের দাম রাখা হচ্ছে ১০ টাকা। তবে কেউ যদি তাল কেটে শাঁস বের করে প্যাকেট করে নিয়ে যেতে চান, তাহলে প্রতি শাঁসের দাম পড়ছে ৫ টাকা অর্থাৎ একটি তালের দাম ১৫ টাকা । অতিরিক্ত শ্রম ও সময়ের কারণে এই বাড়তি দাম নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তারা।
যশোর শহরের আব্দুর রাজ্জাক কলেজ মোড় এলাকায় তালের শাঁস বিক্রি করতে দেখা যায় ঝিকরগাছার রাজগঞ্জ থেকে আসা মোতালেব হোসেনকে। তিনি বলেন, গরম যত বাড়ছে, তালের শাঁসের চাহিদাও তত বাড়ছে। সকাল থেকেই মানুষ এসে কিনছেন। অনেকে পরিবারের জন্য একসঙ্গে ২০-৩০টা পর্যন্ত নিয়ে যাচ্ছেন। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ভিড় হয়।
তিনি আরও বলেন, এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও দেশীয় ফল। মানুষ এখন কৃত্রিম ঠান্ডা পানীয়ের চেয়ে তালের শাঁস বেশি পছন্দ করছেন। এতে শরীর ঠান্ডা থাকে এবং পানিশূন্যতাও কমে।
বাঘারপাড়ার চারাবিটা এলাকা থেকে শহরে এসে তালের শাঁস বিক্রি করছেন আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রতিদিন ভোরে গ্রাম থেকে তাল এনে শহরের বিভিন্ন মোড়ে বিক্রি করি। গরমের এই সময়টাতে বিক্রি ভালো হয়। একদিনে কয়েকশ শাঁস বিক্রি হয়ে যায়।
তিনি জানান, তাল সংগ্রহ, পরিবহন এবং শাঁস আলাদা করতে যথেষ্ট পরিশ্রম করতে হয়। তারপরও মানুষের আগ্রহ দেখে ভালো লাগে।
ক্রেতা ওলিআর রহমান বলেন, তালের শাঁস গরমে খুবই আরাম দেয়। বিশেষ করে রোজা বা প্রচণ্ড গরমের দিনে এটি শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে খেতেও ভালো লাগে।
রিকশাচালক সাদ্দাম হোসেন বলেন, সারাদিন রোদে রিকশা চালাতে হয়। গরমে শরীর ক্লান্ত হয়ে যায়। তালের শাঁস খেলে একটু প্রশান্তি পাই। দামও তুলনামূলক কম, তাই সহজেই কিনতে পারি।
পুষ্টিবিদদের মতে, তালের শাঁসে প্রচুর পরিমাণ পানি, খনিজ ও প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণ রয়েছে। এটি শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে এবং গরমে পানিশূন্যতা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
শহরের ব্যস্ত মোড়গুলোতে এখন তালের শাঁসের অস্থায়ী দোকান যেন গ্রীষ্মের এক পরিচিত চিত্র হয়ে উঠেছে। কোলাহলমুখর শহরজীবনে সামান্য স্বস্তি এনে দিচ্ছে দেশীয় এই মৌসুমি ফল। তীব্র দাবদাহে যশোরবাসীর কাছে তাই এখন তালের শাঁস শুধু একটি ফল নয়, বরং এক টুকরো প্রশান্তির নাম।