অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা'র ঐতিহাসিক ক্যাসেল কোবেনজল প্রাঙ্গণে ইসলামিক রিলিজিয়াস অথরিটি ইন অস্ট্রিয়ার উদ্যোগে মুসলিম ও বিভিন্ন ধর্মের নেতৃবৃন্দের সম্মানে এক ব্যতিক্রমধর্মী রাজকীয় আন্তঃধর্মীয় (ইন্টারফেইথ) ইফতারের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলেক্সান্ডার ভান ডার বেলেন।

অনুষ্ঠানে মুসলিম বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশের রাষ্ট্রদূত, অস্ট্রিয়ার কূটনীতিক, সংসদ সদস্য, মুস্তাফা মুল্লুওগ্লু, ক্রিস্টফ শোনবর্ন, শ্লোমো হফমাইস্টারসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। ইসলামিক রিলিজিয়াস অথরিটি ইন অস্ট্রিয়ার হেড অব অফিস এদিনা হুসোভিচের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেন সংস্থাটির সভাপতি ওমিত ভুরাল।

স্বাগত বক্তব্যে সভাপতি ওমিত ভুরাল অস্ট্রিয়ার প্রেসিডেন্টের উপস্থিতির জন্য বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানান এবং বলেন, অস্ট্রিয়ার মুসলিম সম্প্রদায় ঐক্য, সহাবস্থান ও সামাজিক সংহতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। তিনি সাংবিধানিক কাঠামোর ভেতরে ধর্মীয় স্বাধীনতা, সমতা ও রাষ্ট্রীয় নিরপেক্ষতার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও যুদ্ধজনিত মানবিক সংকট মোকাবেলায় সকল ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সম্মিলিত ভূমিকার আহ্বান জানান। বক্তব্যের শেষভাগে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন—এই ইফতারের সৌহার্দ্য ও আস্থার বার্তা যেন দৈনন্দিন জীবনেও বহমান থাকে।

আন্তঃধর্মীয় ইফতারে তুর্কিশ, বসনিয়ান, আরবিয়ান, আলবেনিয়ান, আফ্রিকান ও এশিয়ান বংশোদ্ভূতদের প্রতিনিধিত্বকারী ১০টি ইসলামিক কমিউনিটির চেয়ারম্যানসহ দুই শতাধিক অতিথি উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন তৌফিক হাসান এবং ইসলামিক রিলিজিয়াস অথরিটি ইন অস্ট্রিয়ার সুপ্রিম কাউন্সিল সদস্য ও এশিয়ান ইসলামিক কমিউনিটির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী হাসিম মোহাম্মদ।

উল্লেখ্য, ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে অস্ট্রিয়াতে ইসলাম সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত ধর্ম হিসেবে ১৯১২ সাল থেকেই প্রতিষ্ঠিত। ঐতিহাসিকভাবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অধিকার সুরক্ষার ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে পাবলিক আইনের অধীনে ইসলামিক রিলিজিয়াস অথরিটি ইন অস্ট্রিয়া একটি কর্পোরেশন হিসেবে গঠিত হয়, যা অস্ট্রিয়ায় বসবাসরত মুসলমানদের ধর্মীয় প্রশাসনিক প্রতিনিধিত্ব করে এবং বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সমন্বয়ের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে।