রাজশাহী ব্যুরো: দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ডে কাঁপছে রাজশাহী। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জেলায় মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস, যা এদিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। ভোর থেকেই রাজশাহীতে ছিল ঘন কুয়াশা। সকাল ৮টা পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলেনি। সড়ক ও রেলপথে ফগ লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে ট্রেনসহ বিভিন্ন যানবাহনকে। বেলা বাড়লে হালকা সূর্যের দেখা মিললেও হিমেল বাতাসে শীতের তীব্রতা কমেনি।
শহরের ফুটপাত, রেলস্টেশন, পুরোনো বাস টার্মিনাল এবং আশপাশের বস্তি এলাকায় শীত সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষদের। অনেকেই খড়কুটো ও কাঠ জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। নগরীর রেলওয়ে বস্তির বাসিন্দা রাকিব বলেন, কয়েক দিন ধরে শীত অনেক বেড়েছে। ঠান্ডায় কাঁপুনি ওঠে। সরকারি বা বেসরকারিভাবে এখনো শীতবস্ত্র পাইনি। নগরীর বিনোদপুর বাজারে দেখা যায়, পুরোনো চাদর গায়ে জড়িয়ে এক বৃদ্ধ রিকশাচালক হাত ঘষে গরম নিচ্ছেন। রিকশাচালক আবদুল জব্বার বলেন, সকালে রাস্তায় বের হতেই ভয় লাগে। ঠান্ডায় লোকজন বের হচ্ছে না, ভাড়াও কমে গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হচ্ছে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্যে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান কমে এসেছে, যা শীতের তীব্রতা বাড়িয়েছে। গত বুধবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৩ ডিগ্রি এবং সর্বোচ্চ ছিল ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন ব্যবধান ছিল প্রায় ১০ ডিগ্রি।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ রহিদুল ইসলাম জানান, ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি তাপমাত্রা এ মৌসুমে রাজশাহীর সর্বনিম্ন এবং এটি দেশের মধ্যেও সর্বনিম্ন। কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া, সেখানে তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি। বাতাসে আর্দ্রতা শতভাগ থাকায় শীতের অনুভূতি আরও বেড়েছে। আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে শীতের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক ও অটোরিকশাচালকরা। চারঘাট থেকে কাজে আসা শরিফ ইসলাম বলেন, ভোরে কাজে বের হওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে। কাজ না করলে সংসার চলে না। শীত বাড়তে থাকায় ফুটপাতের দোকানগুলোতে গরম কাপড়ের বিক্রি বাড়লেও নি¤œ আয়ের মানুষের কাছে তা এখনও নাগালের বাইরে।
রংপুর অফিস : ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে বিপর্যন্ত হয়ে পড়েছে রংপুর অঞ্চলের জনজীবন। গত কয়েকদিন ধরে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে পুরো অঞ্চলজুড়ে হাঁড় কাঁপানো শীত অনুভূত হচ্ছে। ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত সূর্যের দেখা না মেলায় প্রকৃত তাপমাত্রার তুলনায় শীতের তীব্রতা অনেক বেশি গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে রংপুরে তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি, নীলফামারীর সৈয়দপুরে ১২ ডিগ্রি, লালমনিরহাটে ১২ ডিগ্রি, দিনাজপুরে ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি, ঠাকুরগাঁওয়ে ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি এবং গাইবান্ধায় ১১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রংপুর, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, লালমনিরহাট, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও গাইবান্ধা জেলায় দিন দিন শীতের তীব্রতা বাড়ছে। ঘন কুয়াশা আর উত্তরের হিমেল বাতাসে সকালে ঘর থেকে বের হওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে কর্মজীবী মানুষ, বিশেষ করে দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও খেটে খাওয়া মানুষের আয় উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে গেছে। উত্তর হিমালয় পাদদেশ থেকে বয়ে আসা হিমশীতল বাতাস ও কুয়াশা আর শীতের তীব্রতায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কুয়াশা ও উত্তরের হিমেল বাতাসে শীতের তীব্রতা বেড়েছে কয়েকগুণ।
লালমনিরহাট সংবাদদাতা : গত ২ দিন ধরে লালমনিরহাট জেলায় সূর্যের দেখা মেলেনি। কনকনে ঠান্ডা বাতাস ও বৃষ্টির মতো ফোঁটা ফোঁটা শিঁশিরে শীতের তীব্রতায় বিপর্যস্ত জনজীবন। এতে হতদরিদ্র ও খেঁটে খাওয়া মানুষ বিপাকে পড়েছেন। বাসস্ট্যান্ড ও রেলওয়ে স্টেশনের প্লাটফর্মে থাকা ছিন্নমূল মানুষেরা তীব্র শীতে কাবু হয়ে পড়েছেন। তীব্র শীত থেকে কিছুটা রেহাই পেতে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা চালানো হলেও শীতের তীব্রতা থেকে নিস্তার পাচ্ছে না ওই সব মানুষ। শীত বেড়ে যাওয়ায় বোরো ধানের বীজতলা প্রস্তুতি ও চাষবাদে ব্যাঘাত ঘটছে। ইতিমধ্যেই ঠান্ডা জনিত রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালে শিশু ও বৃদ্ধ রোগীর সংখ্যা বেশি, যারা শীতজনিত সমস্যায় ভূগছেন। সরকারি ও বেসরকারি ভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু করা হলেও চাহিদা তুলনায় অপ্রতুল।
ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা : উত্তরের হিমেল হাওয়ায় কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে জেঁকে বসেছে শীত। যতই দিন যাচ্ছে এ জনপদে শীতের তীব্রতা ততই বাড়ছে। গত তিন দিনে সূর্যের দেখা মেলেনি ভূরুঙ্গামারীর আকাশে। কুয়াশার সঙ্গে কনকনে শীত পড়তে শুরু করেছে। এতে শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হয়ে উঠছে সাধারণ মানুষের জীবন। বিশেষ করে কনকনে শীতে দুর্ভোগ বেড়েছে খেঁটে খাওয়া নি¤œ আয়ের মানুষের।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৭ টায় জেলার সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ১১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কুড়িগ্রাম রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া অফিস।