টঙ্গীর হোন্ডা রোড এলাকায় বিএনপি অফিসের সামনে গ্যাস বেলুন বিস্ফোরণে শিশুসহ অর্ধশতাধিক দগ্ধ হওয়ার ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও নিরাপত্তা অব্যবস্থাপনা ও দায় নির্ধারণে কার্যকর কোনো অগ্রগতি নেই। ঘটনার আগে-পিছে মিছিলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, সমন্বয়হীন আয়োজন, অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ে চরম অবহেলা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণেই বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দগ্ধদের মধ্যে একাধিকজনের শরীরের ১৮ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত পুড়ে গেছে, কয়েকজন এখনও ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিবিড় পর্যেবক্ষণে আছেন। আহতদের পরিবার অভিযোগ করছে, ঘটনাস্থলে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না, বেলুন রাখার স্থান জনসমাগমের মাঝখানে হওয়ায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত, উদ্ধারেও শুরুতে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গ্যাস বেলুন ফুলানোর সময় নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা হয়নি, খোলা আগুন ও দাহ্য বস্তু আশপাশে ছিল, কোনো প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক বা ফায়ার সেফটি সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়নি।
বিস্ফোরণের পরপরই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে ভিড়ের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়, এতে আরও কয়েকজন আহত হন। এদিকে মিছিলের আগে-পিছে অবস্থান নিয়ে দুই গ্রুপের হাতাহাতি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেরি হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, একাধিক রোগীর পোড়া ক্ষত গভীর হওয়ায় জটিলতা বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, প্রাথমিক চিকিৎসার পর দ্রুত রেফার করা সম্ভব হলেও ঘটনাস্থলে সময়মতো প্রাথমিক ফার্স্ট এইড ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলে দগ্ধের মাত্রা কমানো যেত।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি মো. শাহিন খান বলেন, বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, আয়োজনের আগে অনুমতি ও ঝুঁকি মূল্যায়ন ঠিকভাবে করা হয়নি, ফলে একই স্থানে ভিড়, দাহ্য গ্যাস বেলুন ও সংঘর্ষের ঝুঁকি একসাথে তৈরি হয়েছিল। ঘটনাটি জনসমাগমপূর্ণ কর্মসূচিতে ন্যূনতম নিরাপত্তা মানদণ্ড মানা না হলে কী ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে-তারই নগ্ন উদাহরণ।
এই ঘটনার পর এলাকাবাসী ও সচেতন মহল দাবি করেছে, দায়িত্বহীন আয়োজনকারীদের বিরুদ্ধে জবাবদিহি নিশ্চিত করা, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অগ্নিনিরাপত্তা, ভিড় ব্যবস্থাপনা ও অনুমতিপ্রক্রিয়া কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা আবারও ঘটতে পারে।