স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর: গাজীপুরের এক পোশাক কারখানায় বেতন বৈষম্য, ঈদ বোনাস, মাতৃত্বকালীন ও ঈদের ছুটি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কারখানার জিএমসহ পাঁচ কর্মকর্তাকে মারধর করেন এবং কারখানার প্রধান ফটক তালাবদ্ধ করে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়। এই ঘটনায় চার শ্রমিককে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে গাজীপুর মহানগরীর শহীদ রওশন সড়কের শফি প্রসেসিং গার্মেন্টস কারখানার শ্রমিকরা দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্যের প্রতিবাদে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করতে যান।
তবে, কথোপকথন বাগবিতণ্ডায় রূপ নিলে শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে কারখানার জিএম (উৎপাদন) মিজানুর করিম, ম্যানেজার (প্রশাসন) মাজহারুল ইসলাম, জিএম (অর্থ) চন্দন কুমার সূত্রধর, এজিএম রফিকুল ইসলাম ও সিকিউরিটি ইনচার্জ আনিসুর রহমানকে মারধর করেন।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা শুধু কর্মকর্তাদের মারধর করেই থামেননি, কারখানার মালামাল ভাঙচুর করেন এবং প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে কর্মকর্তাদের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখেন। দীর্ঘ সময় ধরে কারখানার প্রবেশ ও বাহির পথ বন্ধ থাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে থানা পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। একপর্যায়ে গেটের তালা খুলে আহত কর্মকর্তাদের উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পুলিশ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে সাবিনা (২০), মো. রিপন (২২), আকলাবুর রহমান (৩০) ও মাসুদ রানা (২৬)-কে আটক করেছে।৯
জিএমপিথর বাসন থানার ওসি কায়সার আহমদ বলেন, "বিক্ষোভের একপর্যায়ে শ্রমিকরা পাঁচ কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আটক শ্রমিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।"
শ্রমিকদের অভিযোগ, তাদের নিয়মিত বেতন-বোনাস দেওয়া হচ্ছে না, মাতৃত্বকালীন ছুটি বৃদ্ধি করা হচ্ছে না, এবং অন্যায়ভাবে মজুরি কর্তন করা হচ্ছে। তারা দ্রুত দাবি মানার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন।
এই ঘটনায় গাজীপুরের পোশাকশিল্প এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শ্রমিকদের দাবি পূরণ না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।