ইয়াসিন মনি খান, কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানায় প্রথমবারের মতো নারী অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে যোগদান করেছেন নাজনীন সুলতানা। কসবার দীর্ঘ প্রশাসনিক ইতিহাসে এটি নতুন এক অধ্যায় রচনা করল।
কসবার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
ঐতিহাসিক প্রাক-সমর কৌশলগত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত কসবা উপজেলার শিকড় বহু প্রাচীন। মোগল যুগে কসবা ছিল যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান, বিশেষ করে সড়কপথে ঢাকা–চট্টগ্রাম বাণিজ্য রুটের জন্য। পরবর্তীতে ব্রিটিশ আমলে প্রশাসনিক প্রয়োজনেই কসবা থানা প্রতিষ্ঠা পায়।
১৯৮৪ সালে কুমিল্লা জেলা থেকে আলাদা হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা গঠিত হলে কসবা নতুন জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ থানায় পরিণত হয়। বর্তমানে জেলার ৯টি থানার মধ্যে কসবা অন্যতম জনবহুল ও প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ থানা। স্বাধীনতার পর বহু ওসি দায়িত্ব পালন করলেও নারী হিসেবে নাজনীন সুলতানাই প্রথমবারের মতো এই দায়িত্ব পেলেন।
এর আগে নাজনীন সুলতানা কুমিল্লার লাকসাম থানায় দায়িত্ব পালন করে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখেন। লাকসামের বাসিন্দারা তাঁর দৃঢ়তা, মানবিকতা ও কর্মদক্ষতার জন্য তাঁকে বিশেষভাবে স্মরণ করছেন। তাঁর সফলতায় অনুপ্রাণিত হয়ে কুমিল্লা রেঞ্জের বিভিন্ন থানায় আরও নারী ইন্সপেক্টর পদায়নের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
গত বছরের ৮ অক্টোবর তিনি লাকসাম থানার ইতিহাসে প্রথম নারী ওসি হিসেবে যোগদান করেন এবং দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
নাজনীন সুলতানার জীবন ও কর্মজীবন
চট্টগ্রাম জেলার সীতাকু- উপজেলার পূর্ব সৈয়দপুর গ্রামের ফজলুল হক ভূঁইয়ার কন্যা নাজনীন চার ভাইবোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট। চট্টগ্রাম সিটি কলেজ থেকে বাংলা বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পাশাপাশি তিনি এলএলবি ডিগ্রিও অর্জন করেছেন।
২০০৭ সালে উপ-পরিদর্শক (এসআই) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। এরপর ফেনী সদর, চট্টগ্রামের কোতোয়ালি, ডবলমুরিং, খুলসী, এসবি, ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ইমিগ্রেশনে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৬ সালে ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পেয়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে অপারেশনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০১৮ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করে দেশের সুনাম বয়ে আনেন।
লাকসাম থানা (প্রতিষ্ঠা ১৯৮২) এর ৪০তম ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর এবার তিনি কসবা থানায় নতুন দায়িত্ব নিলেন- এবারও প্রথম নারী হিসেবে।
কসবার জন্য নতুন প্রত্যাশা
নাজনীন সুলতানার দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে কসবাবাসীর মধ্যে ইতোমধ্যেই নতুন আশা তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, নারী-শিশুর নিরাপত্তা এবং সেবামুখী পুলিশিং-এ তার নেতৃত্ব নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে স্থানীয়দের প্রত্যাশা।