সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা : নীলফামারীর সৈয়দপুরে প্যাকেট কেটে বস্তায় ভরে গোপনে পাচারের সময় টিসিবির ৩০ বস্তা মসুর ডাল আটক করা হয়েছে। গত ৩ মার্চ সন্ধ্যা ৬টার দিকে ভ্যানে করে পাচার কালে এই মালগুলো সৈয়দপুর-পার্বতীপুর সড়কে আটক করে সচেতন ছাত্ররা। পরে পুলিশ আটককৃত ডাল জব্দ করে থানায় নেয়। এ ব্যাপারে থানায় জিডি করা হয়েছে।
জানা গেছে, আটক মসুর ডালগুলো সৈয়দপুর শহরের টিসিবি ডিলার আনোয়ার স্টোরের। সৈয়দপুর-পার্বতীপুর সড়কের পাশে সুলতাননগর এলাকায় এই ডিলারের গোডাউন। সেখান থেকেই মালগুলো ভ্যানে করে নিয়ে যাচ্ছিলেন শহরের নিচু কলোনী এলাকার রেশন ব্যবসায়ী নুর আলম। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এলাকার কিছু শিক্ষার্থী ভ্যানসহ তাকে আটক করে।
এ সময় সে জানায়, ২৫ কেজি ওজনের ৩০টি বস্তায় মসুর ডালগুলো সে কিনে নিয়েছে। তার কথার প্রেক্ষিতে কোথায় থেকে কিনেছেন সেখানে নিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দিলে নুর আলম সুলতান নগরের টিসিবি গোডাউনে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থানরত আব্দুর রহিম নামে একজন স্বীকার করেন যে, মালগুলো উক্ত গোডাউনের। এর প্রেক্ষিতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, আটককৃত মসুর ডাল টিসিবির।
মাল আটকারী সচেতন ছাত্রদের মধ্যে মেজবাহ নামে একজন বলেন, ভ্যানে চালের বস্তায় মসুর ডাল দেখতে পেয়ে সন্দেহবশতঃ ভ্যান চালককে আটক করি। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানোর জন্য ইউএনও কে বার বার কল দেয়া হলেও তিনি রিসিভ না করায় এসি ল্যান্ড কে মোবাইল করলে তিনি উপজেলা পরিষদ চত্বরে নিয়ে যেতে বলেন। সে অনুযায়ী উপজেলা চত্বরে যাওয়ার পর এসিল্যান্ড এসে বিষয়টি দেখেন এবং দ্রুত সুলতান নগর এলাকায় টিসিবির গোডাউন তল্লাসী করেন। সেখানে টিসিবির অন্যান্য পণ্য সামগ্রী পাওয়ায় নিশ্চিত হন যে আটক মসুর ডালগুলো টিসিবির। কিন্তু তারপরও প্রশাসন কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেননি। কারণ এর সাথে উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস এম আমিরুজ্জান শমীম জড়িত।
পরে থানায় খবর দিলে এসআই আমির হোসেন উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে মাল উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। পরে এ ব্যাপারে জিডি করা হয়েছে। তিনি জানান, জিডি মুলে তদন্ত করা হবে। তদন্তে যদি মালগুলো টিসিবির বলে প্রমাণিত হয় তাহলে সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। নয়তো যদি টিসিবির না হয় তাহলে তথ্য প্রমাণ দিয়ে মাল নিতে পারবেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী। নয়তো উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশক্রমে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।