দেশবাসী এখন পরিবর্তন চায়। যারা দীর্ঘ ৫৪ বছর রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে, তারা পরীক্ষিত ও ব্যর্থ। আমরা বিশ্বাস করি উই উইল ব্রিং দ্য চেঞ্জ। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে খুলনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সকাল থেকে খুলনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ছিল ব্যস্ততা ও রাজনৈতিক উত্তাপ। এদিন অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
নির্বাচন আচরণবিধি অনুযায়ী একজন প্রার্থীর সঙ্গে সর্বোচ্চ পাঁচজন প্রতিনিধি নিয়ে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আ.স. ম জামশেদ খন্দকারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এদিন জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে খুলনার চারটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়।
খুলনা-৫ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার, খুলনা-৬ আসন থেকে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, খুলনা-৩ আসন থেকে খুলনা মহানগর আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, খুলনা-২ আসন থেকে মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ও কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল। খুলনা-১ আসন থেকে জামায়াত মনোনীত হিন্দু প্রার্থী কৃষ্ণনন্দী কিছু সময় পর মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
মনোনয়ন দাখিল শেষে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, জামায়াতে ইসলামি আট দলীয় সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। সম্প্রতি আরও দুটি দল যুক্ত হওয়ায় জোটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দশে। তিনি বলেন, মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত আসনভিত্তিক সমঝোতার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
তিনি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য কারচুপি ও ভোটাধিকার হরণের আশঙ্কা তুলে ধরে বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ভোট ডাকাতি ও রিগিংয়ের যেকোনো চেষ্টা জনগণ প্রতিহত করবে এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
খুলনা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর হিন্দু প্রার্থী কৃষ্ণনন্দীকে ঘিরে আলোচনা প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, ধর্ম নয় ন্যায়, ইনসাফ ও সুশাসনই জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির মূল ভিত্তি। ভিন্ন ধর্মাবলম্বীরাও এই দর্শন সমর্থন করলে জামায়াতে যুক্ত হতে পারেন।
নিজের প্রতিক্রিয়ায় কৃষ্ণনন্দী বলেন,হিন্দু-মুসলমানসহ সব ধর্মের মানুষের কাছ থেকেই তিনি ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন এবং খুলনা-১ আসনে ভালো ফলের ব্যাপারে আশাবাদী।
মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন হওয়ায় সকাল থেকেই জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।