চট্টগ্রাম বন্দর সচল রয়েছে বলে দাবি করেছেন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান। তবে সরেজমিন পরিদর্শনে বন্দরের কার্যক্রমে স্থবিরতার চিত্র দেখা গেছে।
গতকাল রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বন্দর ভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান জানান, বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি বলেন, শ্রমিক-কর্মচারীরা কর্মস্থলে ফিরে গেছেন এবং যানবাহন চলাচল করছে। কেউ কাজে বাধা দিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
এর আগে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা না দেওয়াসহ চার দফা দাবিতে সকাল আটটা থেকে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর ব্যানারে শ্রমিক-কর্মচারীরা ধর্মঘট শুরু করেন। ধর্মঘটের কারণে সকাল থেকেই বন্দরের বহির্নোঙর ও জেটিতে পণ্য ওঠানামা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সাংবাদিকরা বন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ থাকার তথ্য তুলে ধরলে চেয়ারম্যান দাবি করেন, কিছু বিপথগামী কর্মচারী পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন। তার অভিযোগ, এ ধরনের কর্মকাণ্ড রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে এবং রমযানকে সামনে রেখে জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।
এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান জানান, এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি এবং দর-কষাকষি প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। তবে সংবাদ সম্মেলনের পর বেলা দেড়টার দিকে বন্দরের ৪ নম্বর গেট থেকে নিউমুরিং টার্মিনাল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ফটকগুলো দিয়ে কোনো যানবাহন প্রবেশ বা বের হতে দেখা যায়নি। উড়ালসড়ক থেকে জেটি এলাকায়ও জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানামার দৃশ্য দেখা যায়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বন্দর সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় আংশিক কার্যক্রম চালুর চেষ্টা করা হলেও শ্রমিক-কর্মচারীরা সহযোগিতা না করায় তা সম্ভব হয়নি। নিউমুরিং টার্মিনালে একটি জাহাজ থেকে সীমিত সংখ্যক কনটেইনার নামানো হলেও তা নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ নয় বলে জানা গেছে। একইভাবে বহির্নোঙর এলাকায় বড় জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজে পণ্য স্থানান্তর কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে বলে শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটররা জানিয়েছেন।
এর আগে ৩১ জানুয়ারি থেকে তিন দিন প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। পরে গত মঙ্গলবার থেকে লাগাতার কর্মবিরতি শুরু হয়। তবে গত বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর আন্দোলন সাময়িকভাবে দুই দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছিল। এরপর আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হলে উত্তেজনা নতুন করে বাড়ে। বন্দর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আন্দোলন উসকে দেওয়ার অভিযোগ তুলে শনিবার থেকে লাগাতার ধর্মঘট শুরুর ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।
শ্রমিক-কর্মচারীদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে-এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা না দেওয়ার ঘোষণা, বন্দর চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহার, আন্দোলনরত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়া।
সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহীম খোকন অভিযোগ করেন, আন্দোলন দমাতে প্রশাসন ভিন্ন কৌশল নিচ্ছে। তিনি দাবি করেন, বন্দর ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিষদের দুই জ্যেষ্ঠ নেতাকে তুলে নেওয়া হয়েছে। শ্রমিক-কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজে যোগ দেননি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।