বিশিষ্ট পরমানু বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. এম শমসের আলীর স্মরণসভায় দেশের বিশিষ্টজনেরা পরমানু বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. এম শমসের আলীর জীবন ও কর্মকে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, ড. শমসের আলী ছিলেন একাধারে একজন পন্ডিত, বাগ্মী এবং ইসলামি চিন্তাবিদ। সমাজে ইসলামের সঙ্গে বিজ্ঞানের বিরোধ তৈরির ধারণাকে ভেঙে দিয়েছিলেন ড. শমসের আলী। আল কোরআনের মর্ম বাণীর বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণে তিনি ছিলেন অতুলনীয়। দেশে বিজ্ঞান শিক্ষার বিস্তার ও গবেষণা কার্যক্রমে তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম মিলনায়তনে এ স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। যেটির আয়োজন করে বৃহত্তর যশোর ডিরেক্টরির নির্বাহী পরিষদ। স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের বিচারপতি মো. আবদুল মান্নান। সভায় বক্তব্য দেন- যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুল মজিদ, ইব্রাহীম কার্ডিয়াক ও বারডেম হসপিটালের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ডা. আব্দুর রশীদ, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক মাহাবুবুল আলম গোরা, ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রফেসর ডা. ফাতেমা আশরাফ, ঢাকা মেইলের নির্বাহী সম্পাদক হারুন জামিল, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি মোরসালিন নোমানী, বৃহত্তর যশোর সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম ফিরোজ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ড. আবদুল মান্নান, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সাবেক প্রধান সাইকোলজিস্ট রওশন আরা জামান রুবি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা সোহেল আহমদ, আসাদ আলী আশীষ, সাংবাদিক ওয়াহিদুল ইসলাম, প্রকাশক হাবিবুর রহমান, মিজানুর রহমান মিজু, ফারহানা হাসান, ফারিয়া ইসলাম প্রমুখ। সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন যশোর ডিরেক্টরির সাধারণ সম্পাদক হাসানুজ্জামান বিপুল। সেখানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনির বক্তব্য শোনানো হয়।

প্রফেসর আব্দুল মজিদ বলেন, ‘ড. এম শমসের আলী উঁচু মাপের বিজ্ঞানী ও পন্ডিত ব্যক্তি ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তার জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত। তাহলে তরুণ সমাজ তার কর্মের মাধ্যমে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারবে। তিনি ছিলেন ন্যায়, সাম্য ও ইনসাফের ভিত্তিতে সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের চিন্তক।’ বিচারপতি আবদুল মান্নান বলেন, ‘ড. শমসের আলী একজন খ্যাতিমান বিজ্ঞানী ছিলেন। দেশের গন্ডিতে তিনি সীমাবদ্ধ ছিলেন না। তার তিরোধানে সমাজ ও রাষ্ট্রের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তিনি যা বিশ্বাস করতেন, চিন্তা করতেন, অকপটে তা-ই বলতেন। গভীর দেশপ্রেমবোধ ছিল তার আদর্শ।’ প্রফেসর আব্দুর রশীদ বলেন, ‘ড. শমসের আলীর কর্ম পৃথিবীর মানুষের জন্য। তিনি কোনো এলাকার সম্পদ ছিলেন না। তার কর্মের ওপর গবেষণা হওয়া প্রয়োজন। তিনি ছিলেন একজন ক্ষণজন্মা মনিষী, ভালো বক্তা ও ইসলামি চিন্তাবিদ।

মাহবুবুল আলম গোরা বলেন, ‘ড. শমসের আলী ছিলেন হীরকদ্যুতির মানুষ, পরমাণু বিজ্ঞানী, কৃতি অধ্যাপক ও গণমাধ্যম বক্তা। বিজ্ঞান ও ধর্মকে এক সমান্তরালে এনে তিনি কথা বলতেন। তার উপস্থাপনা ছিল অসাধারণ। তাকে নিয়ে একটি স্বারক গ্রন্থ বের করা উচিত।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি বলেন, ‘এ দেশের শিক্ষা বিস্তারে ড. শমসের আলীর ভূমিকা চিরদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারণা তার। তিনি এটিকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি দেশের কল্যাণে কাজ করেছেন।’

ঢাকা মেইলের নির্বাহী সম্পাদক হারুন জামিল বলেন, ‘বাংলাদেশের তথাকথিত এলিট সমাজের মধ্যে ইসলাম নিয়ে উন্নাসিকতা কাজ করে। প্রফেসর ড. শমসের আলী সে ট্যাবু ভেঙে দিয়েছিলেন।’