পবিত্র রমযান মাস এলেই বন্দরনগরী চট্টগ্রামের অলিগলি থেকে শুরু করে বড় বড় বিপণিবিতান-সবখানেই জমে ওঠে ইফতার সামগ্রীর বেচাকেনা। তবে এ ব্যস্ততার মাঝেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যপণ্যের ছড়াছড়ি। বিশেষ করে ইফতারের জনপ্রিয় আইটেম-বেগুনি, পেঁয়াজু, আলুর চপ, জিলাপি, ছোলা, মুড়ি ও শরবতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন এলাকায়। নগরের কাজীর দেউড়ি, চকবাজার, আন্দরকিল্লা, আগ্রাবাদ, হালিশহরসহ বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণভাবে তৈরি ও বিক্রি করা ইফতার সামগ্রীতে মানহীন তেল, কৃত্রিম রং ও বাসি উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ করছেন ক্রেতারা। অনেক বিক্রেতা একই তেল বারবার ব্যবহার করছেন, যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এছাড়া জিলাপির উজ্জ্বল রং আনতে ব্যবহার করা হচ্ছে ক্ষতিকর কেমিক্যাল। ভোক্তাদের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার আশায় নি¤œমানের উপকরণ ব্যবহার করছেন। রাস্তার পাশে খোলা স্থানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে ইফতার সামগ্রী। অনেক ক্ষেত্রে খাবার ঢেকে রাখা হয় না, ফলে ধুলোবালি ও জীবাণু সহজেই মিশে যাচ্ছে খাদ্যে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভেজাল ও বাসি খাবার খেলে ডায়রিয়া, ফুড পয়জনিং, গ্যাস্ট্রিক, লিভারের সমস্যা এমনকি দীর্ঘমেয়াদি জটিল রোগ হতে পারে। রোজাদাররা সারাদিন না খেয়ে থাকার পর ইফতারে এসব নি¤œমানের খাবার খেলে ঝুঁকি আরও বাড়ে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, রমযানকে কেন্দ্র করে বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে এবং অনিয়ম পেলে জরিমানা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে জনবল স্বল্পতা ও অসচেতনতার কারণে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, শুধু প্রশাসনিক অভিযান নয়-ব্যবসায়ীদের নৈতিকতা ও ভোক্তাদের সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি। খাবার কেনার আগে মান, গন্ধ ও সংরক্ষণ পদ্ধতি যাচাই করা এবং সন্দেহজনক কিছু দেখলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো প্রয়োজন। রমজানের পবিত্রতা ও সংযমের মাসে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত ইফতার নিশ্চিত করতে প্রশাসন, ব্যবসায়ী ও ভোক্তা-সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেছেন, প্রতি বছর রমযান এলেই ইফতার সামগ্রীতে ভেজাল মেশানোর অভিযোগ ওঠে, যা দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা। অসাধু ব্যবসায়ীদের এ অনৈতিক কর্মকা-ের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ভেজাল প্রতিরোধ এবং ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি কঠোর নজরদারি ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানান তিনি।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ভেজাল খাদ্য মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এসব খাবার গ্রহণ করলে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল ও দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি ভেজাল খাবার পরিহারের পরামর্শ দেন।