বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর ৯৩তম বোর্ড অব ম্যানেজমেন্ট সভা স্থগিত করা হলেও নিয়োগ জালিয়াতি ও বিতর্কিত পদোন্নতি ইস্যুকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা কমেনি। বরং অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনিকভাবে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হলেও অন্তর্নিহিত সংকট এখনো বহাল রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।

বুধবার সকালে ব্রি প্রশাসনের এক আদেশে জানানো হয়, নির্ধারিত বোর্ড সভাটি অনিবার্য কারণে স্থগিত করা হয়েছে। তবে একাধিক সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক নিয়োগ অনিয়ম, পদোন্নতি বিতর্ক এবং জাতীয় গণমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের প্রেক্ষাপটই এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি মূল সমস্যার সমাধান নয়, বরং সাময়িক চাপ কমানোর একটি প্রশাসনিক উদ্যোগ মাত্র।

এর আগে প্রায় ৭৫টি শূন্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া ঘিরে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অন্তত দু’জন প্রার্থী যোগদান করতে এসে ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় তাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং পৃথক মামলা দায়ের হয়। আরও কয়েকজন নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি পরবর্তীতে যোগদান করতে আসেননি, যা পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, প্রার্থীর পরিবর্তে অন্য ব্যক্তি লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই ধরনের জালিয়াতি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বলে ধারণা করা হচ্ছে; বরং একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

অভ্যন্তরীণ সূত্রে আরও জানা গেছে, নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী বলয় সক্রিয় রয়েছে, যারা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, পদোন্নতি এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করে আসছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে এই বলয় নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে এবং প্রভাব বজায় রাখতে আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগ জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলাগুলোর তদন্ত প্রক্রিয়াও নানাভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে, যাতে মূল পরিকল্পনাকারীরা আড়ালে থেকে যেতে পারে। যদিও সংশ্লিষ্টরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তবুও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও ঘটনাপ্রবাহ তদন্তের প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালো করছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বোর্ড সভা স্থগিত হওয়া পরিস্থিতিকে সাময়িকভাবে শান্ত করলেও মূল সমস্যার কোনো কাঠামোগত সমাধান হয়নি। তারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ব্রির মতো একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনিয়ম ও প্রশাসনিক অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে তা শুধু প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নয়, দেশের সামগ্রিক কৃষি গবেষণা ও খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।