নির্বাচন ডেস্ক

নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সংস্থা সমূহের জোট ভয়েস নেটওয়ার্ট-এর উদ্যোগে গত রোববার রাজনৈতিক দলের ইশতেহার : তারুণ্যের ভাবনা শীর্ষক ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের মিলনায়তনে এই ডায়ালগে এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পেশাজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

ভয়েস নেটওয়াট-এর চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ডক্টর মো. জসিম উদ্দীনের সভাপতিত্বে উক্ত ডায়ালগ এ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়ের, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নির্বাচনী মিডিয়া উপ-কমিটির প্রধান মাহাবুব আলম, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির-এর সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগাহ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান। অনুষ্ঠানে ভয়েস নেটওয়াট-এর কার্যক্রম তুলে ধরেন ভয়েস নেটওয়ার্ক-এর কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি এনায়েত হোসেন জাকারিয়া। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ভয়েস নেটওয়ার্ক এর সদস্য সচিব একরামুল হক সায়েম। আরো উপস্থিত ছিলেন ভয়েস নেটওয়ার্কভুক্ত সংস্থা সমুহের প্রধানগন। আলোচনায় আরো অংশগ্রহণ করেন ভয়েস নেটওয়ার্কের শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক বোরহান উদ্দীন শিক্ষক, ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি। ফাতিমা আফরিন জুমা, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ডাকসু। ডায়ালগ এ শিক্ষার্থী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ স্বতস্ফূর্তভাবে তাদের প্রশ্ন ও মতামত তুলে ধরেন। ভবিষ্যৎ এ সাম্য ও ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মাণে রাজনৈতিক দলসমূহের কর্মসূচি ও কর্ম পরিকল্পনা সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়। সভায় নিম্নোক্ত বিষয়ে তরুণদের ভাবনা ও মতামত তুলে ধরা হয়।

তরুণদের মেধা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার উপায় সম্পর্কে রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। তরুণদের বক্তব্যে জাতীয় নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, কৃষি ও ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা আসন্ন নির্বাচনে সকল রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়। আসন্ন নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহার যেন কথার ফুলঝুরি না হয়ে বাস্তবায়নযোগ্য হয় সে বিষয়ে তাগিদ দেয়া হয়।

যেখানে তরুণদের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়Ñ শিক্ষা, স্বাস্থ্যের ও পরিবেশের জন্য রাজনৈতিক দলগুলো কি কি করবেন? আসন্ন নির্বাচনে বিজয়ী দল গুলো বাজেটে কিভাবে সুষমভাবে অঞ্চল (জেলা) ভিত্তিক বরাদ্ধ করা হবে, কৃষিখাতে আধুনিকায়ন, জনগণের জন্য বরাদ্ধকৃত বাজেটে দুর্নীতিরোধ, নৈরাজ্যমুক্ত পরিবহন সেক্টর, যানবাহন ও ট্রাফিক সমস্যা, জাতীয় নিরাপত্তায় অভ্যন্তরীণ সমস্যা (রোহিঙ্গা শরনার্থী সমস্যা) সমাধানে কি পদক্ষেপ থাকবে, সীমান্ত হত্যারোধ ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, আন্তঃদেশীয় নিরাপত্তায় কি ব্যবস্থা নিবে, গার্মেন্টস ও চা শিল্পের শ্রমিকদের ন্যায্য পারিশ্রমিকের জন্য কি কি করবেন? অভ্যন্তরীণ সহিংসতা নির্বাচনকালীন সময়ে এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়ে-এর ব্যবস্থাপনা কি থাকবে? ১১টি সংস্কার কমিশনের রিপোর্টগুলো কিভাবে প্রতিফলিত হবে, জুলাই শহীদ এবং যোদ্ধাদের জন্য রাজনৈতিক দল গুলোর পদক্ষেপ কি থাকবে? গুম, হত্যার বিচার হবে কিনা? ট্রানজিশনাল জাস্টিস কি হবে কিনা? দুদককে স্বাধীন রাখা কিনা? এসব বিষয়গুলো রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী ইশতেহারে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করার তাগিদ দেয়া হয়।

তরুণদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির ওপর জোর দিয়ে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং নীতিনির্ধারণে যুবসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। দক্ষ ও যোগ্য মানব সম্পদ তৈরির পাশাপাশি তরুণদেরকে নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে। “রাজনৈতিক দলের ইশতেহার : তারুণ্যে ভাবনা” শীর্ষক ডায়ালগ এ নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ এসব কথা বলেন।