কলারোয়া (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা : কলারোয়ায় শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে বোরো ধানের বীজতলায় কোল্ড ইনজুরিসহ বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ক্ষতির আশঙ্কায় চাষিরা হতাশ হয়ে পড়েছে।কলারোয়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বোরো মৌসুম শুরু হয়েছে। বিগত বছরগুলোর চেয়ে এবছর বেড়েছে বোরো ধানের চাষ। এ বছর বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১২ হাজার ৭০০হেক্টর। গত বছরের চেয়ে প্রায় ৩৭৫ হেক্টর বেশি জমিতে বোরো ধানের চাষ হবে হলে আশা প্রকাশ করেছেন। উপজেলায় এখন পর্যন্ত বোরো ধানের চাষ হয়েছে ১ হাজার হেক্টর।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা যায়, কলারোয়ায় দিনের সর্বোনিন্ম তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলিসিয়াস। গত কয়েকদিন থেকে কলারোয়ার সর্বোচ্চ ও সর্বনি¤œ তাপমাত্রা কমেছে। এছাড়া সন্ধ্যার পরে বাতাস বইলেও রাত থেকে বেলাভর কুয়াশা পড়ছে। সকাল ৯টায় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। এছাড়া সন্ধ্যা ৬টায় বাতাসের আর্দ্রতা ৮৬ শতাংশ।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বোরোর বীজতলায় কোথাও হলুদ, কোথাও লালচে বর্ণ ধারণ করেছে। আবার অনেক জায়গায় গাছ বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। কোনো কোনো বীজতলার চারা মারা যেতে শুরু করেছে। অনেক জায়গায় কৃষকরা পলিথিন দিয়ে চারা ঢেকে দিয়েছে। জালালাবাদ ইউনিয়ন এলাকার কৃষক মোঃ আব্দুস সাত্তার( মুহুরি) বলেন, কয়েকদিন আগেও বোরো ধানের বীজতলা সবুজ ছিল। কয়েকদিনের তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশার কারণে ধানের চারার পাতা মরে যাচ্ছে। পুরোবীজ তলায় এমন হচ্ছে। এতে করে বোরো ধানের চারা মারা যাওয়ার শঙ্কা করা হচ্ছে। প্রচ- ঠান্ডা আর কুয়াশার জন্যই এমন হচ্ছে। এমন কুয়াশা অব্যাহত থাকলে বীজতলা নষ্ট হয়ে যাবে।গোচমারাগ্রামের কৃষক আরশাদ আলী কৃষক বলেন, কয়েকদিন থেকে দুপুরের পরে কিছুটা সূর্যের দেখা মিলছে। তবে নেই রোদের তাপ। সন্ধ্যার পরে থেকে বইছে হিমেল হাওয়া। আর গভীর রাত থেকে পড়ছে কুয়াশা। প্রতিদিন সকালে বোরো ধানের বীজতলায় খেজুরের পাতা দিয়ে কৃষকরা কুয়াশাগুলো ফেলে দিচ্ছে।

কলারোয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ইনামুল হক বলেন, ধানের বীজ বপনের উপযোগী তাই চিন্তার কোন কারন নেই। কিছু বীজতলা কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়েছে। এখনও শীতের কুয়াশার কারণে সেই ভাবে বোরো ধানের বীজ তলা নষ্ট হয়নি। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে এগুলো সেরে উঠবে।তবে আমরা কৃষকদের পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার পরামর্শ দিচ্ছি। একই সঙ্গে যে কৃষকদের বীজতলার জমিতে পানি জমে আছে সেগুলো নিষ্কাশন করতে হবে। এছাড়া কোনো ধরনের কিটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। তবে আরও কয়েকদিন অবহাওয়া এমন থাকলে ক্ষতির পরিমাণ বোঝা যাবে ।