গাইবান্ধা সংবাদদাতা : গত ৩ দিন থেকে গাইবান্ধাসহ উত্তরাঞ্চলে ইছে প্রচন্ড শীত। শৈত্য প্রবাহের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষের দুর্ভোগ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। ভোরের আলো ফুটতেই গাইবান্ধা যেন ঢেকে যায় সাদা কুয়াশার মোটা চাদরে। শীতের তীব্রতায় কাঁপছে পুরো জেলা, কাঁপছে জনজীবন। হঠাৎ করে তাপমাত্রা অনেকটা কমে গেছে। গাইবান্ধা জেলার সাতটি উপজেলাতেই শীতের প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

সকালের দিকে সূর্যের দেখা মিললেও তা ছিল মলিন ও দুর্বল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশার ঘনত্ব কিছুটা কমলেও বিকালে আবার শীত বাড়ে। বিকেলের দিকে অল্প সময়ের জন্য সূর্য উঁকি দিলেও তা স্বস্তি দিতে পারেনি।

বিশেষ করে সুন্দরগঞ্জ ও সাদুল্ল্যাপুর উপজেলায় কুয়াশার প্রকোপ ছিল সবচেয়ে বেশি। ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায় রাস্তা-ঘাট, মাঠ-ঘের, বসতবাড়ি। দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলে দেখা দেয় চরম ভোগান্তি। মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। সকাল থেকেই শ্রমজীবী মানুষ পড়েছেন বিপাকে।

দিনমজুর, কৃষক ও খেটে খাওয়া মানুষ কাজে যেতে পারছেন না সময়মতো। শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন এই প্রচন্ড শীতে। গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বেড়েছে রোগীর চাপ।

সর্দি, কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা হঠাৎ করেই বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে শিশুরা ঠান্ডাজনিত কাশি ও সর্দিতে বেশি ভুগছে। সুন্দরগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দা এনতাজ মিয়া জানান,

“গত এক মাসের মধ্যে আজ ও গতকাল শীত সবচেয়ে বেশি পড়েছে।” তিনি আরও বলেন, “এতো ঠান্ডায় মানুষের সর্দি-কাশি বেড়েছে, শিশুরাও খুব কষ্ট পাচ্ছে।” একই কথা জানালেন সাদুল্ল্যাপুরের অনেক বাসিন্দাও।

তাদের মতে, এই শীতে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। শীতের তীব্রতায় বাজারে বেড়েছে কম্বল ও লেপের চাহিদা। শীতের পোশাকের দোকানগুলোতে দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়।

নি¤œ আয়ের মানুষজন শীত নিবারণের উপকরণ জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন। কুয়াশার কারণে সকালের যান চলাচল হয়ে উঠেছে ঝুঁকিপূর্ণ। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় আতঙ্কে থাকছেন চালক ও পথচারীরা।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন শীত আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা শিশু ও বৃদ্ধদের বাড়তি যতœ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। গরম কাপড় ব্যবহার ও প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ার দাপটে গাইবান্ধা এখন যেন শীতের রাজ্য। আবহাওয়া বিদরা বলেছেন এই শৈত্য প্রবাহ আরও কয়েকদিন থাকতে পারে।

পঞ্চগড় সংবাদদাতা : হিমেল হাওয়া ও ঘনকুয়াশা থাকায় উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে জেঁকে বসেছে শীত। সন্ধ্যা নামতেই উত্তরের হিমেল হাওয়া বাড়িয়ে দেয় শীতের তীব্রতা। তীব্র শীত শুরু হওয়ায় বিপাকে পড়েছে জেলার নি¤œ আয়ের লোকজন।

সন্ধ্যা নামতেই ছিন্নমুল ও নি¤œ আয়ের লোকজন শীতের দাপটে কাহিল হয়ে পড়ছে। এর ফলে বেচা-কেনা বেড়েছে শহরের ফুটপাতের পুরনো মোটা গরম কাপড়ের দোকান গুলোতে।

শীতার্ত লোকজন জানান, কয়েকদিন থেকে পঞ্চগড়ে তীব্র ঠান্ডা। বিকেলে রোদে দেখা মিললেও শীতের তীব্রতা রয়েছে। ঠান্ডার কারণে আয়-রোজগার কমে গেছে। দ্রুত তারা সরকারি- বেসরকারি সাহায্য সহযোগিতা চেয়েছেন।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় মুঠো ফোনে জানান, কয়েকদিন থেকে পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা উঠা-নামা করছে। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ৯ টায় তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস। বাতাসের আদ্রতা ৯৯% ।

সংশ্লিষ্টরা জানান,তীব্র শীতের প্রকোপ থেকে একটু উষ্ণতা দিতে সমাজের বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে জেলার ছিন্নমুল ও নি¤œ আয়ের লোকজন শীত থেকে বাঁচার উপায় খুজে পাবেন।