চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা

কুয়াশার চাদরে ঢেকে রয়েছে চুয়াডাঙ্গা। তিন দিন ধরে সূর্যের দেখা মেলেনি। এ জেলায় শীত জেঁকে বসেছে। দ্রুত কমতে শুরু করেছে তাপমাত্রা। উত্তর দিক থেকে আসা হিমেল বাতাস শীতের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, গতকাল সোমবার সকাল ৯টায় দেশের সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। এদিন সকাল ৬টায় সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সে সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ।

দ্রুত তাপমাত্রা কমার কারণে জনদুর্ভোগ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও নি¤œআয়ের মানুষ বিপাকে পড়েছে। জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। হাসপাতালগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। বয়ষ্ক ও শিশুরা নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। কুয়াশার কারণে সড়কগুলোতে যানবাহন হেডলাইন জ্বালিয়ে চলাচল করছে।

বিরামপুর (দিনাজপুর) সংবাদদাতা : হিমালয়ের পাদদেশ দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উত্তরের হিমেল হাওয়ায় তীব্র শীতে কাঁপছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকায় তাপমাত্রা কমেছে। ঘন কুয়াশা ও শীতের তীব্রতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।

বিরামপুর কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বিরামপুরে সর্বোচ্চ ১৪ এবং সর্বনি¤œ ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা উঠানামা করছে। হিমেল বাতাস কনকনে শীত অনুভূত হচ্ছে। ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়েছে অঞ্চল। দিনের বেলায় আঞ্চলিক মহাসড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। গত রবিবার সকাল থেকে বেশিরভাগ সময় বিরামপুরে সূর্যের দেখা মেলেনি। বিকেলের দিকে সূর্যের দেখা মিললেও ছিল না সূর্যের উত্তাপ। প্রচন্ড ঠান্ডায় শিশুদের নিউমোনিয়া ও বড়দের শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা বাড়তে শুরু করেছে। হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ফুটপাতে পুরানো কাপড়ের দোকানগুলোতে নি¤œ ও মধ্যবিত্ত মানুষের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। জীবিকার তাগিদে কাজে যোগ দেয়া খেটেখাওয়া মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। সীমাহীন কষ্টে রয়েছে রিকশা ভ্যান চালক, কৃষি শ্রমিকেরা। তীব্র শীতে ছিন্নমূল ও নি¤œ আয়ের মানুষেরা শীতবস্ত্রের অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

নীলফামারী সংবাদদাতা : গত দু’দিন ধরে কনকনে ঠান্ডা বিরাজ করছে উত্তরের জেলা নীলফামারীতে। সেই সাথে ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে চরম দুর্ভোগে পড়েছে এ জেলার দরিদ্র মানুষজন। ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলায় হেড লাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় খেটেখাওয়া ও নি¤œ আয়ের মানুষজন চরম দুর্ভোগে পড়েছে। বিশেষ করে ডিমলা উপজেলার তিস্তা নদীর কোল ঘেঁষা গ্রাম ও চরের মানুষজন সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছেন। নীলফামারী পুরাতন রেল স্টেশন এলাকার ফেরিওয়ালা খলিল হোসেন জানান, গত দু’দিন ধরে ঘন কুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাসের কারণে কাজে যেতে পারিনি।

এদিকে শীত নিবারণ করতে গরম কাপড় সংগ্রহে নি¤œ আয়ের মানুষরা পৌরসভা মাঠের পুরানো কাপড়ের বাজারে ভিড় করছেন।

সৈয়দপুর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ লোকমান হোসেন জানান, সোমবার সকাল ৭টায় নীলফামারীর সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।