বড়লেখা (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা: স্থানীয় বাসিন্দা এবাদুর রহমান এবাদের বিরুদ্ধে লীজ গ্রহীতার স্বত্ত মামলায় আদালতের স্থিতাবস্থা জারিকৃত রেলওয়ের ভূমি জবরদখল করে মার্কেট নির্মাণের অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এর আগে ২০২৫ সালে একই কায়দা আদালতের স্থিতাবস্থা জারির আদেশ অমান্য করে তিনি রেলওয়ের ভূমির আরেক লীজ গ্রহীতা সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুল হান্নানের লীজকৃত ভূমি জবর-দখল করে টিনসেট ঘর নির্মাণ ও গাছপালা রোপন করেন।

সরেজমিন ও ভোক্তভোগি বড়লেখা পৌরশহরের বারইগ্রাম এলাকার নুরুল ইসলামের স্ত্রী করিমা পারভিনের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বড়লেখা রেলস্টেশনের পশ্চিম-উত্তর দিকের সরকারি খাদ্য গুদামের পশ্চিমের জেএল নং-৬৮, দাগ নং-৩২৫ এর ৪৬ শতক রেলওয়ের ভূমি তিনি কৃষিলিজ নিয়ে ভোগাধিকার করছিলেন। ২০২৪ সালের শুরুতে পৌরমেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী উক্ত ভূমিতে পৌরসভার সবজি বাজার স্থানান্তরের প্রস্তাব দিলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমতি সাপেক্ষে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে তিনি রাজি হন। এরপর পৌর কর্তৃপক্ষ উক্ত নিচু ভূমিতে কয়েক লাখ টাকার মাটি ভরাট করে সবজি বাজার চালু করেন। ওই বছরের ৮ মার্চ প্রধান অতিথি হিসেবে তৎকালিন সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন সবজি বাজারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। কিন্তু চব্বিশের জুলাই-আগষ্ট পট-পরিবর্তনে পৌরমেয়র আত্মগোপন করায় সবজিবাজার বন্ধ হয়ে পড়লে তা জবর-দখলের পাঁয়তারা চালান বিএনপি নেতা এবাদুর রহমান এবাদ ও তার সহযোগিরা।

উল্লেখ্য, এবাদুর রহমান এবাদ দীর্ঘদিন ধরে উক্ত ভূমি জোরপূর্বক জবর-দখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকায় লিজ গ্রহীতা করিমা পারভীন উক্ত ভূমির ওপর মৌলভীবাজার সহকারি জজ আদালতে (বড়লেখায়) স্বত্ব মামলা (১৪৮/২০১৫) দায়ের করেন। আদালত উক্ত ভূমির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন যা অদ্যাবধি বহাল রয়েছে। কিন্তু বিএনপি নেতা এবাদ দেশের পটপবির্তনের সুযোগ নিয়ে আদালতের স্থিতাবস্থার জারির আদেশ অমান্য করে গত ২৫ জানুয়ারি তারা উক্ত ভূমিতে টিনসেট ঘর নির্মাণের লক্ষ্যে খুঁটি পুতা শুরু করলে লীজ গ্রহীতা করিমা পারভিন কাজে বাঁধা দিতে গেলে দেশিয় অস্ত্রসস্ত্রে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। এসময় প্রত্যক্ষদর্শীরা তাকে রক্ষা করেন।

করিমা পারভিন জানান, তার বাবা মৃত আব্দুল মন্নান উক্ত ৪৬ শতাংশ ভূমি রেলওয়ের কাছ থেকে ৯৯ বছরের জন্য স্থায়ী কৃষি লিজ নেন। ৫০-৬০ বছর ধরে উক্ত ভূমি তাদের দখলে রয়েছে। তারা বাবা মারা যাওয়ার পর তিনি দখলে রাখেন। এবাদুর রহমান এবাদ উক্ত ভূমি জবর-দখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত হলে তিনি আদালতে স্বত্ব মামলা করেন। আদালত ভূমির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। দীর্ঘদিন এবাদের উৎপাত না থাকলেও চব্বিশ পরবর্তীতে আমার লীজের ভূমি পুনরায় জবর-দখলে অপচেষ্ঠায় লিপ্ত হয়। ২৫ জানুয়ারি ঘর তৈরী করতে গেলে আমি তাকে বাধা দিতে গেলে সে ও তার দলবল আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করে। এব্যাপারে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। থানা পুলিশ কাজ বন্ধ করেছে। তবে, আমি শংকিত সে যেকোন সময় সে আবার জবর-দখলের অপচেষ্টা করতে পারে।

এব্যাপারে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা এবাদুর রহমান এবাদ জানান, এই ভূমি তার মৌরসি। এব্যাপারে আদালতে মামলা চলমান এবং স্থিতাবস্থা জারি রয়েছে। স্থিতাবস্থা জারি অবস্থায় কেন উক্ত ভূমিতে দোকানঘর তৈরীর চেষ্টা চালাচ্ছেন এবং ইতিপূর্বে আরেক লীজ গ্রহীতা আব্দুল হান্নানের ভূমিতে স্থাপনা নির্মাণ করলেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশ বাধা দেয়ায় আর কোনো কাজ করছেন না।