যশোর জেলা জামায়াত ইসলামের উদ্যোগে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে সোমবার (২ মার্চ) পৌর কমিউনিটি সেন্টারে এক বিশাল ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। পবিত্র রমজানের মহিমা, তাকওয়া অর্জন, যাকাতের সামাজিক গুরুত্ব এবং নৈতিক সমাজ গঠনে নেতৃত্বের ভূমিকা সবকিছু মিলিয়ে পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল আধ্যাত্মিক আবহ। ইফতার
মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক গোলাম রসুল, যিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের যশোর জেলার আমির এবং যশোর–৪ (অভয়নগর–বাঘারপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন,
রমজান মানুষের মধ্যে আত্মশুদ্ধি, সংযম এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে। ব্যক্তিগত ইবাদতের পাশাপাশি দরিদ্রসহ সমাজের প্রতিটি মানুষের কল্যাণে যাকাত ও দান-সাদকার ভূমিকা অপরিসীম। আমরা যদি সত্যিকার অর্থে ইসলামের সামাজিক শিক্ষা অনুসরণ করি, তাহলে ন্যায়, মানবতা ও নৈতিকতার ভিত্তিতে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, রমজান শুধুমাত্র রোজা রাখার মাস নয়, বরং চরিত্র গঠন, আত্মসংযম ও নৈতিক উন্নতির এক অনন্য সুযোগ। মুসলমানদের উচিত রোজার শিক্ষা সারা বছর নিজের জীবনে ধারণ করা। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও মানুষের সেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।
ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন যশোর–১ (শার্শা) আসনের সংসদ সদস্য। মাওলানা আজীজুর রহমান, উপস্থিত ছিলেন আরও যশোর–২ (ঝিকরগাছা–চৌগাছা) আসনের সংসদ সদস্য। মুসলেহউদ্দিন ফরিদ,
যশোর -৫ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক,যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সাবিরুল হক সাবু
এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে অংশ নেন ভিপি আব্দুল কাদের, যশোর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা আবু জাফর, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি গোলাম কুদ্দুস, এবং অন্যান্য জেলা উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের অন্যান্য বক্তারা রমজানের ফজিলত, তাকওয়া অর্জনের গুরুত্ব, যাকাতের সামাজিক ভূমিকা এবং মুসলমানদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁরা বলেন, রমজান মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বকে আরও মজবুত করে। সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের দায়িত্ব। যাকাত শুধু আর্থিক দান নয়, বরং দারিদ্র্য দূরীকরণ ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য স্থাপনের একটি কার্যকর ইসলামী ব্যবস্থা।
বক্তারা আরও বলেন, সমাজে নৈতিক সংকট, মানবিক বিপর্যয় ও সামাজিক অবক্ষয় দূর করতে হলে রমজানের শিক্ষা ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে। রোজার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো মানুষকে আল্লাহভীরু, সৎ, ন্যায়পরায়ণ ও মানবকল্যাণে নিবেদিত করে গড়ে তোলা। নেতৃবৃন্দের প্রতি তারা মানুষের সেবাকে মূল দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানান এবং কর্মীদেরকে দায়িত্বশীল ও আদর্শবান হওয়ার নির্দেশনা দেন।
ইফতার মাহফিলে উপস্থিত কয়েকশত মানুষ একত্রে মোনাজাতে অংশ নেন। দেশের শান্তি, অগ্রগতি, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং দোয়া কবুলের জন্য বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। মোনাজাত শেষে অতিথি, নেতাকর্মী এবং সর্বস্তরের মুসল্লিদের মধ্যে ইফতার পরিবেশন করা হয়।
শেষ বক্তব্যে সভাপতি অধ্যাপক গোলাম রসুল আবারও সবাইকে রমজানের আত্মিক ও নৈতিক শিক্ষা জীবনে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রমজান আমাদের জন্য দয়া, ক্ষমা ও নাজাতের মাস। এই মাসের ফজিলত কাজে লাগিয়ে আমরা যদি ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে ইসলামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠা করতে পারি, তাহলে একটি ন্যায়ভিত্তিক উন্নত সমাজ গঠনের পথ সুগম হবে।
আয়োজকরা জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও যশোর জেলা জামায়াতের উদ্যোগে এই ইফতার মাহফিল আয়োজন করা হয়েছে, যাতে ধর্মপ্রাণ মানুষ একত্রে বসে রমজানের ফজিলত অর্জন করতে পারে এবং সমাজিক সম্প্রীতি আরও দৃঢ় হয়।