মৌলভীবাজার সংবাদদাতা: কলেজে অনিয়মিত উপস্থিতির অভিযোগ থাকলেও মহান বিজয় দিবসের মতো রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতেও অনুপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার সরকারি মহিলা কলেজে কর্মরত শিক্ষা ক্যাডারের ১৬ শিক্ষক। এতে কলেজের শিক্ষার্থী অভিভাবক ও সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। জাতি গড়ার কারিগর শিক্ষকদের রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে এমন দায়িত্বহীনতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। গত ১৬ ডিসেম্বরের মৌলভীবাজার সরকারি মহিলা কলেজের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে এমন চিত্র দেখা যায়। কলেজের অনুষ্ঠানে তেমন শিক্ষার্থীও উপস্থিত দেখা যায়নি। জাতীয় দিবসের গুরুত্বপূর্ণ এ কর্মসূচিতে অনুপস্থিত ছিলেন- রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো: আজিজুল হক, বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ রেজাউল করিম, প্রভাষক ফারহানা ইয়াসমিন, মো: রাসেল আহমেদ, সুলতানা বেগম, অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো: আবদুল আউয়াল, প্রভাষক মিলাদুল ইসলাম, ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রওশন আরা, প্রভাষক পলাশ চক্রবর্তী, আরবি ও ইসলামী শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক ফয়েজুন্নেছা, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক এস এম নোমান চৌধুরী, রসায়ন বিভাগের প্রভাষক মো: উমর ফারুক, প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রইছ উদ্দিন, প্রভাষক মো: আল আমীন এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রভাষক মো: মাহফুজুর রহমান। একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, কলেজের অধিকাংশ শিক্ষক মাসে ৪/৫ দিন উপস্থিত থাকেন। আবার কেউ কেউ মাস শেষে বেতন বিল তোলতে শুধু কলেজে আসেন। শিক্ষকদের এমন দায়িত্বহীনতায় পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। গত কয়েক বছরের এইচএসসি’র ফলাফল পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, অধিকাংশ শিক্ষার্থীর ফলাফল খারাপ হয়েছে। আবার অনেকের জিপিএ এসএসসির চেয়ে নিচে নেমে আসে। পাঠদান না হওয়ায় অনার্স ও ডিগ্রী লেভেলের শিক্ষার্থীরাও ভালো ফলাফল করতে পারছে না। মানসম্মত পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে মৌলভীবাজার সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. আবু ইউসুফ মো: শেরউজ্জামান বলেন, “অনেকেই ফোনে আমার কাছ থেকে ছুটি নিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে এভাবে ফোনে ছুটি নেয়া যায় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের বাড়ি দূরে থাকায় আসতে পারেননি।