পাইকগাছা (খুলনা) সংবাদদাতা : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা খুলনায় নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠছে নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন চরমপন্থী সংগঠন ও আন্ডারওয়ার্ল্ডের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীরা। গত ৫ই আগস্টের পর থেকে খুলনা মহানগরসহ বিভিন্ন উপজেলায় একের পর এক হত্যাকা- এবং নদীতে লাশ উদ্ধারের ঘটনায় জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে খুলনা-৫ ও খুলনা-৬ আসনের দুর্গম এলাকাগুলোতে চরমপন্থীদের আনাগোনা বাড়ায় নিরাপত্তা নিয়ে দেখা দিয়েছে গভীর উদ্বেগ।
সক্রিয় হচ্ছে নিষিদ্ধ সংগঠনগুলো
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনার ডুমুরিয়া, ফুলতলা, পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা চরমপন্থীরা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি, নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি, পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি ও জনযুদ্ধের মতো নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যরা পুনরায় সংগঠিত হচ্ছে। এমনকি সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ ডাকাত দলের সদস্যরাও লোকালয়ে ফিরছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গোপন সংবাদ অনুযায়ী, এসব সংগঠনের সদস্যরা রাতের আঁধারে বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় গোপন বৈঠক করছে। চাঁদা ও অর্থ সংগ্রহ করছে।
নতুন সদস্য সংগ্রহের মাধ্যমে নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করছে।
রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীরা আবারও এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
ঝুঁকিপূর্ণ খুলনা-৫ ও খুলনা-৬ আসন
ভৌগোলিক কারণে খুলনা-৫ (ফুলতলা-ডুমুরিয়া) এবং খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসন দুটি সবসময়ই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে চ্যালেঞ্জিং। বিল ও নদীঘেরা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকা হওয়ায় এসব স্থানকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করছে অপরাধীরা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতে অচেনা মানুষের চলাচল এবং কোথাও কোথাও প্রকাশ্যে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনা ঘটছে। জীবনের নিরাপত্তায় অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
নির্বাচনী পরিবেশে আশঙ্কার মেঘ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খুলনার এই আসনগুলোতে চরমপন্থী সহিংসতার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। অতীতে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র তৎপরতা ও খুনের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে চরমপন্থীদের এই তৎপরতা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে তারা মনে করেন। ভোটাররা যদি আতঙ্কিত থাকেন, তবে কেন্দ্রে যাওয়ার হার কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রশাসনের প্রস্তুতি ও অবস্থান
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, পলাতক চরমপন্থী ও সন্ত্রাসীদের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং বিশেষ চেকপোস্ট ও টহল জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলে যৌথ বাহিনীর অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন যেন দ্রুত সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা হয়। সাধারণ ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তার নিশ্চয়তা চান তারা।
এখন দেখার বিষয়, নির্বাচনের আগে এই জনপদে শান্তি ফিরিয়ে আনা এবং চরমপন্থীদের দমন করা প্রশাসনের জন্য কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।