নান্দাইল (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা : ময়মনসিংহের নান্দাইলে নদীর ভাঙন রোধ ও সড়ক রক্ষায় নরসুন্দা নদীর তীরে ব্লক দিয়ে ৮২৫ মিটার বাঁধ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তা নির্মাণের এক বছর যেতে না যেতেই ব্লকের নীচের মাটি সরে গিয়ে ব্লক ও সড়ক ধ্বসে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে বিধি মোতাবেক কাজ না হওয়ার তা ভেঙে পড়েছে বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি ভাঙনের বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে নদীর তীরের সড়কটিও ধ্বসে গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হতে পারে বলে আশংকা করছেন স্থানীয় জনগণ।

জানা গেছে, নান্দাইল উপজেলা এলজিইডি’র অর্থায়নে ১ কোটি ৩৭ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ে মুশুল্লী ইউনিয়নের তারেরঘাট বাজার টু শুভখিলা-কিসমত রসুলপুর সড়কের পাশে নরসুন্দা নদীর তীরের ৮২৫ মিটার ব্লকের কাজ করা হয়। কিশোর এন্ট্রারপ্রাইজ নামে স্থানীয় একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আব্দুল গণি ভূইয়া এ কাজ বাস্তবায়ন করেন। সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, উল্লেখিত সড়কের পাশে নরসুন্দা নদীর তীরের বাধকৃত ব্লক ধ্বসে গেছে। বক্লগুলো এলোমেলো অবস্থায় এখানে সেখানে পড়ে আছে। কিছু কিছু ব্লক নদীর মধ্যে চলে যাওয়ায় উপরের সড়ক ধ্বসে যাচ্ছে। ৮২৫ মিটার ব্লকের কাজের অধিকাংশই ভেসে ও ধ্বসে গেছে। ফলে নদীর পাড়ের পাকা সড়কটি যেকোন সময় সম্পূর্ণ ধ্বসে যেতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা লিয়াকত আলী ও লাল বানু জানান, “কাজ করার সময়েই তারা অনেক গাফিলতি করেছে। কাজ সম্পূর্ণ করার দুই মাসের মধ্যেই ফাটল দেখা দিয়েছিল। পড়ে তারা কোনরকম ফাটল বন্ধ করে দিলেও এখন একেবারে ভেঙে নদীতে চলে গেছে। এভাবে সরকারি অর্থ অপচয়ে জনগণের কি লাভ হলো ?”

ঠিকাদার আব্দুল গণি ভূইয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “নরসুন্দা নদীর তীরের জায়গাটি ছিল খুবই খাঁড়া, ফলে নদীর পানির স্রোতে ধীরে ধীরে ব্লকের নীচের মাটি সরে গিয়ে ব্লকগুলো সরে গিয়েছে। যেটুকু ক্ষতি হয়েছে, তা আবার পুনরায় করে দেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আব্দুল মালেক বিশ্বাস বলেন, “ ব্লক সরে যাওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের জামানতের টাকা এখনও উত্তোলন করে নাই। ঠিকাদারের সাথে যোগাযোগ করে পুনরায় তা করানো হবে।