কলারোয়া (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা: কলারোয়ায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য পালো দিয়ে মাছ ধরা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। আধুনিকতা ও কালের বিবর্তনে এই ঐতিহ্য প্রায় বিলুপ্তির পথ । এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে কলারোয়ার ভারত সীমান্তবর্তী চন্দনপুর ইউনিয়নের কয়েক জন যুবক প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও উদ্দ্যোগ নিয়েছে। এই এলাকায় শীতের মৌসুমে কয়েক মাস জুড়ে উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। হাজারো মানুষ মাছ ধরতে মেতে ওঠে এই উৎসবে। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য পলোবাওয়া উৎসব (পলো দিয়ে মাছ ধরা)। বর্ষা মৌসুম শেষ হলে বাঁশ দিয়ে তৈরি পলো দিয়ে গ্রামের মানুষ নদী-নালা ও খাল-বিলে সারিবদ্ধভাবে মাছ শিকার করতো । কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে এই পলো বাওয়া।
তবে বিলুপ্তির পথে গ্রামীণ এ ঐতিহ্য ধরে রাখতে কলারোয়ার চন্দনপুর গ্রামের রিপন , আলমগীর হোসেন, সাব্বির হোসেনসহ অনেকে নেতৃত্বে মাইকিং ও ঢ্যাড়াপিটিয়ে স্থানীয় বাজারে মাছ ধরার জন্য পলো বাওয়া উৎসবের জন্য ঘোষণা দেয়। এক মাস ধরে কলারোয়া উপজেলার ভাড়কীর বিল, নোয়াকাটি বিল,কাজিরহাট বিল, কায়বা কোলনী বিলে এ উৎসবের আয়োজন করা হয় ।
এলাকাবাসী জানান, উপজেলার কয়েকটি বড় বড় বিল পানিতে ডুবে থাকে। ভারতীয় সীমান্তে ইছামতি নদীর পানি ঢোকে এই সমস্ত বিলে। আমন ধানের ফসল না হওয়ায় মৎস্য শিকারিরা বিভিন্ন ভাবে মৎস্য শিকার করে থাকে। তবে প্রতিবছর বিলের পানি নিষ্কাশনের নির্দিষ্ট সময়ে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। কয়েকটি গ্রাম থেকে শৌখিন মাছ শিকারিরা ভোর থেকে জড়ো হতে থাকে বিলপাড়ে। আগের থেকেই নির্ধারিত দিনে সকাল ৭টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত মানুষ মাছ ধরার জন্য উন্মুক্ত বিলে বিনামূল্যে পলো বাওয়া অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।
মাছ শিকারি ও উৎসুক এলাকাবাসী বলেন, যান্ত্রিক যুগে আমরা ভুলেই গিয়েছিলাম পলো দিয়ে মাছ ধরার দৃশ্যকে। আজ এ উৎসবের মধ্য দিয়ে শৈশবকে ফিরে পেলাম। আয়োজকদের একজন রিপন হোসেন বলেন, পলোবাওয়া গ্রামবাংলার ঐতিহ্য। অনেক পুরোনো এটিকে ধরে রাখতে এবং চায়না , কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ শিকার বন্ধে সচেতনতা তৈরি করতেই আমাদের এ আয়োজন। আমরা গত কয়েক মাস ধরে কয়েকটা পলোবাওয়ার আয়োজন করেছি। এখনো অনেক বিল বাকি রয়েছে। যার মধ্যে ঠেইয়ামারীর বিল, মহিষার বিল, কায়বার বিল, বায়ারডাঙ্গার বিল, রুদ্রপুর বিল, বাইকোলার বিল। এ ধরণের উৎসব দেখতে উৎসূক জনতার ভিড় ছিল বিলপাড় জুড়ে। সাধারণ জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ উৎসবকে স্বাগত জানিয়েছেন।