সিরাজগঞ্জে ইন্টার্ন চিকিৎসকের উপর ন্যাক্কারজনক হামলা এবং রেডিস ইন্টার্ন হোস্টেলে বখাটে অনুপ্রবেশের প্রতিবাদে কর্মবিরতি এবং অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এরআগে, গত ১ আগষ্ট শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিশু বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে একজন ইন্টার্নি চিকিৎসকের উপর রোগীর লোকজন আকস্মিকভাবে হামলা করেন।

রবিবার (৫ এপ্রিল) সকাল ১১টায় শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সামনে কর্মবিরতি এবং অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ইন্টার্নি ডক্টরস এসোসিয়েশন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ।

অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে ইন্টার্নি ডক্টরস এসোসিয়েশন সভাপতি ডাঃ তামিম হাবিব হিমেল বলেন, হাসপাতালে কর্তব্যরত একজন ইন্টার্ন চিকিৎসকের উপর ন্যাক্কারজনক হামলার শিকার হন। একটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে, বিশেষ করে একজন ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর এ ধরণের হামলা চরম লজ্জাজনক ও উদ্বেগজনক।

আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে ইন্টার্ন ও জুনিয়র চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

তিনি আরো বলেন, একজন ইন্টার্ন চিকিৎসক হিসেবে আমাদের সহকর্মীরা দিন-রাত নিরলস পরিশ্রম করে রোগীদের সেবা দিয়ে থাকেন। সীমিত জনবল, অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাব সত্ত্বেও আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি। আমাদের উপর শারীরিক ও মানষিক আক্রমণ নেমে আসে, তখন তা শুধু কষ্টদায়কই নয়, বরং ভীতিকর ও হতাশাজজনক। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভেতরে প্রবেশ ও প্রস্থানে যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ নেই। এতে খুব সহজেই দুস্কৃতিকারীরা প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে। ইন্টার্নদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আধুনিক গেট পাস সিস্টেম চালু করতে হবে। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ হামলার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস এসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক ডাঃ শাকিল আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ডাঃ মশিউর রহমান, কোষাধ্যক্ষ ডাঃ বুলবুল আহমেদ, ডাঃ ইউসুফ আলী, ডাঃ আসিফ, ডাঃ হাবিবুর রহমান, ডাঃ গোলাম মর্তুজাজ, ডাঃ শাহরিয়া সিদ্দিক ও ডাঃ আনিকা তাবাসসুমসহ সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ।