মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় আইডিয়াল টেক্সটাইল মিল নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে জ্বালিয়ে দিয়ে তাঁর ব্যবস্থাপকে জবাই করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। মোবাইল ফোনে এমন হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমন একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
অভিঘযোগ উঠেছে হুমকি দাতা ওই ব্যক্তির নাম মো.শহিদুল ইসলাম শহিদ। তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি। যাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে তাঁর নাম আবদুর রহমান। তিনি সদরের পঞ্চসার ইউনিয়নের চরমুক্তারপুরে অবস্থিত আইডিয়াল টেক্সটাইল মিলের ব্যবস্থাপক।
চাঁদা চেয়ে না পাওয়ায় হুমকির ঘটনাটি ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে হুমকি-ধমকি কোন চাঁদার জন্য নয়,অন্য একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে বলে দাবি করেছেন শহিদুল।
ওই অডিও রেকর্ডে শোনাযায়,ফোনের এক প্রান্ত থেকে আব্দুর রহমনা সালাম দিচ্ছেন। অপর প্রান্ত থেকে শহিদুল সালামের জবাব দেন।এর পর শহিদুলের ফোন কেনো মিলের ব্যবস্থাপক ধরছেন না, কেনো তার (শহিদুললের) নম্বর ব্লক করে রাখা হয়েছে, বলতে বলতে আবদুর রহমানের বাবা-মা তুলে গালি গালাজ করতে থাকে শহিদুল।আবদুর রহমান কেনো ফোন ধরতে পারেননি এটা বিনয়ের সঙ্গে বলার চেষ্টা করলেও শহিদুল কোন কথা না শুনে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন। সে সময় শহিদুল ফ্যাক্টরিটি জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। পাঁচ মিনিটের মধ্যে আবদুর রহমানকে ফ্যাক্টরি ছাড়ার নির্দেশ দেন। কেউ আবদুর রহমানকে বাচাঁতে পারবেন না বলে হুমকির এক পর্যায়ে আবদুর রহমানকে জবাই করার কথা বলেন শহিদুল।
গত দুদিন ধরে ওই কল রেকর্ডটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাসছে। রেকর্ডটি শেয়ার করে,কেউ শেয়ার করা রেকর্ডিতে বিএনপি ও ওই নেতাকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা করছেন নেটেজিনরা।
আবদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন,শহিদুল আমাকে কি ভাষায় গালিগালাজ করেছে আপনারা শুনেছেন।আল্লাহ তাঁর বিচার করবো। কি কারনে এমন হুমকি ও গালিগালাজ করা হয়েছে জানতে চাইলে আবদুর রহমান বিষয়টি এড়িয়ে যান। তবে তিনি কথা প্রসঙ্গে বলেন,পঞ্চসার ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএপির সভাপতি আবদুর জব্বার আমাদের প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করেন। ঈদুল ফিতরের কয়েকদিন আগে শহিদুল জব্বারের মাধ্যমে আমাদের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছিল। আমরা দেইনি,এতে শহিদুল ইসলাম আমাদের উপর ক্ষিপ্ত।
আবদুর জব্বার বলেন,ঈদের বন্ধের আগে আমাকে দিয়ে শহিদুল আইডিয়াল টেক্সটাইলের কাছে এক লাখ টাকা চেয়ে ছিল। আমি বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।প্রতিষ্ঠান কোন টাকা দেয়নি।এর পরে যা হয়েছে,তা জানতে হলে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে হবে।
অডিও রেকর্ডটি স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শহিদুলের নিজের বলে স্বীকার করেছেন।তবে অডিওটি বছর খানেক আগের দাবি করে শহিদুল ইসলাম বলেন,ওই প্রতিষ্ঠানে দুর্ঘটনার কারনে একজন কর্মী মারা যায়।সেদিন ওই কর্মীর বিষয়াদি নিয়ে কথা বলতে চাইলে আবদুর রহমান ফোন ধরেনি। সে সময় তিনি রাগ করে এমন কথা বলেছিলেন।
চরমুক্তারপুর এলাকার স্থানীয় কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে শহিদুল মুক্তারপুর, চরমুক্তারপুরে তার আধিপত্য গড়ে তোলেন। ফেব্রুয়ারিতে সংসদ নির্বাচনে তিনি ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে নির্বাচন করেন। ধানের শীষ জয় লাভের পর শহিদুল ইসলাম আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে। চরমুক্তারপুরের বি়ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কখনো সে নিজে আবার কখনো তাঁর লোকজন দিয়ে চাঁদা দাবি করে চলেছে।এছাড়াও তার লোকজন এলাকায় মাদকের ব্যবসাও করেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।