টঙ্গীতে বিকাশের মানি কালেক্টরকে গুলি করে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের মোট ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও র‍্যাব। এর মধ্যে আগে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করে এবং সর্বশেষ র‍্যাব-১ টানা অভিযানে আরও তিন সদস্যকে আটক করেছে। তবে এ চক্রের মূল হোতা এখনো পলাতক রয়েছে এবং তাকে গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে।

পুলিশ ও র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ বিকেলে টঙ্গীর মেসার্স ডে অ্যান্ড সন্সের বিকাশ মানি কালেক্টর মো. আজাদ (৩১) ও আরিফুর রহমান (২৬) মোটরসাইকেলে করে বিভিন্ন ডিস্ট্রিবিউশন পয়েন্ট থেকে নগদ ১৪ লাখ ৭৭ হাজার টাকা সংগ্রহ করে অফিসে ফেরার পথে টঙ্গী পূর্ব থানাধীন আনারকলি রোডে পৌঁছালে ৭-৮ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল তাদের পথরোধ করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ডাকাতরা প্রকাশ্যে আরিফুর রহমানকে পেটে গুলি করে এবং মো. আজাদকে ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এরপর নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তারা দ্রুত পালিয়ে যায়। প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত এ ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পরপরই গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ তদন্তে নেমে চক্রটির তিন সদস্যকে গ্রেফতার করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটন করে। পরবর্তীতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব-১ নজরদারি বাড়িয়ে শনিবার ভোর পর্যন্ত গাজীপুর মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে রাজিব হাসান লিটন (৩৮), মো. শহীদুল ইসলাম (৪৪) ও সঞ্জয় চন্দ্র শীল (৩৬) কে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা সংঘবদ্ধভাবে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের টঙ্গী পূর্ব থানায় হস্তান্তর করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ ইসরাইল হাওলাদার বলেন, গাজীপুর মহানগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছে। টঙ্গীর ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হয়েছে এবং পুলিশ ও র‍্যাবের সমন্বিত অভিযানে স্বল্প সময়ের মধ্যেই ডাকাত চক্রের অধিকাংশ সদস্যকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতার প্রমাণ। তিনি আরও বলেন, এই চক্রের মূল হোতা এখনো পলাতক থাকলেও তাকে গ্রেফতারে বিশেষ টিম মাঠে রয়েছে এবং খুব শিগগিরই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে আমরা আশাবাদী।

পুলিশ কমিশনার আরও জানান, নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল, চেকপোস্ট ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

এ ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে ভবিষ্যতেও কঠোর ও ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকবে, যাতে সাধারণ মানুষ নিশ্চিন্তে চলাফেরা ও ব্যবসা পরিচালনা করতে পারে।