পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সারাদেশে যখন উৎসবের আমেজ বইছে, তখন কুষ্টিয়ায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আওতাধীন জেলার ৯৫০ জন প্রাক-প্রাথমিক ও ধর্মীয় শিক্ষকের ঘরে চলছে তীব্র অভাবের আগুন। দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত স্বল্প বেতনে শিশুদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা প্রদান করে আসা এই শিক্ষকদের শেষ ভরসা ছিল ঈদের বেতন ও উৎসব ভাতা। কিন্তু জেলা কর্মকর্তাদের চরম উদাসীনতায় তা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষক নাজমুল হক জানান, “উপ-পরিচালকসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হজ্জে গেছেন। হয়তো ফিরে এসেই ব্যবস্থা করবেন।” আরেক শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, “যে বেতন পাই তা দিয়ে সংসার চালানোই কষ্টকর। ঈদের কেনাকাটা তো দূরের কথা।” চাকরি হারানোর ভয়ে অনেক শিক্ষক ক্যামেরার সামনে মুখ খুলতে সাহস পাননি।
আড়ালে অনেকেই কেঁদেছেন। তাদের অভিযোগ, দেশের অন্যান্য জেলায় শিক্ষকরা ঈদ ভাতা পেয়ে গেলেও কুষ্টিয়ায় উপ-পরিচালক ও ফিল্ড অফিসার একসঙ্গে সৌদি আরবে হজে চলে যাওয়ায় কোনো বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে মাঠপর্যায়ের এই অসহায় শিক্ষকরা চরম মানবিক সংকটে পড়েছেন। ভুক্তভোগী আবু ইউসুফ বলেন, “আমরা অর্থনৈতিক দুরবস্থায় আছি। ঈদের বাজার করতে পারছি না, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও কিনতে পারছি না।” ঝিনাইদহের চলতি দায়িত্বে থাকা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম স্বীকার করেছেন যে, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা হজে যাওয়ায় এবং কাউকে দায়িত্ব না দিয়ে যাওয়ায় বেতন পরিশোধ সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, হজ থেকে ফিরে ১ বা ২ তারিখের মধ্যে সব বেতন-বোনাস পরিশোধ করা হবে। শিশুদের হাতে ধর্মীয় শিক্ষার আলো তুলে দেয়া এই শিক্ষকরা নিজেরাই এখন অন্ধকারে। ঈদের কয়েক ঘণ্টা বাকি। এখনো অনেক শিক্ষক উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দিকে তাকিয়ে আছেন—শেষ মুহূর্তে হলেও যেন তাদের প্রাপ্য বেতন ও ভাতার ব্যবস্থা হয়। এই ঘটনা প্রশ্ন তুলেছে—সমাজের অন্ধকার দূর করতে যারা নিয়োজিত, তাদের উৎসবের আলো কেড়ে নেওয়ার জন্য কোনো জবাবদিহিতা থাকবে কি-না।