হাফেজ মফিজ ॥ আজ দাফন : এফ,এ আলমগীর, চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা: চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদহ বাজারে নির্বাচন পরবর্তী ঘটনার রেশ ধরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের হামলায় নিহত বড় ভাই জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমানের পর আইসিইউতে থাকা ছোট ভাই জামায়াতে ইসলামীর বাঁকা ইউনিয়ন আমীর হাফেজ মাওলানা মফিজুর রহমান (৩২)ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১২টায় মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সিনিয়র প্রচার-সহকারী মুজিবুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ইফতারের পর বিএনপির নেতাকর্মীরা জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমানকে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে এবং তার আপন ভাই জবীননগরের বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মফিজুর রহমান গুরুতরভাবে আহত হয়ে ঢাকাস্থ কাকরাইলের অরোরা স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি মঙ্গলবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তিকাল করেছেন। কাকরাইলের অরোরা হাসপাতালে বেলা সোয়া ৩টার দিকে তার প্রথম জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, মাওলানা আব্দুল হালিম, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ও পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান, চুয়াডাঙ্গা জেলা আমীর ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ রুহুল আমিন প্রমুখ।

জানাযা শেষে স্বজনরা তার লাশ নিয়ে চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশে রওয়ানা দেন। আজ বুধবার চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে নিজ গ্রাম জীবননগর উপজেলার সুটিয়া ঈদগাহ ময়দানে জানাযা শেষে দাফন করা হবে।

উল্লেখ্য গত ১৩ ফেব্রুয়ারি পূর্ব শত্রুতার জের ধরে উপজেলার হাসাদাহ বাজারের স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতা মেহেদী হাসান পার্শ্ববর্তী সুটিয়া গ্রামে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিতে যান। বিষয়টি স্থানীয়রা টের পেয়ে তাকে সুটিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে আটকে রেখে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ নিয়ে যায়। ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে সুটিয়া গ্রামের খাইরুল হাসাদাহবাজারে বাজার করতে গেলে মেহেদী হাসানসহ তার দলবল খাইরুলকে মারধর করে। ইফতারের পরে খাইরুলসহ জামায়াত নেতারা বিষয়টি সমাধানের জন্য গেলে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষে রুপ নেয়। সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত হাসাদাহ কামিল মাদরাসা গেটের সামনে দফায় দফায় এ সংঘর্ষ হয়। এ সময় ইউনিয়ন আমীর মাওলানা মফিজুর রহমান আক্রান্ত হলে তাকে উদ্ধার করতে বড় ভাই হাফিজুর রহমান এগিয়ে গেলে বিএনপি সমর্থকরা তাকেও দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে জীবননগর হাসপাতালে পাঠায়। অবস্থার অবনতি হলে হাফিজুর ও মফিজুরকে প্রথমে যশোর জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেওয়া হয়। রাতেই ঢাকার কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আড়াইটার দিকে মারা যান হাফিজুর রহমান। সংঘর্ষে গুরুতর আহত তার ছোট ভাই ও বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মফিজুর রহমানকে ঢাকার কাকরাইলে অরোরা স্পেশালাইজড্ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়, ১০ দিন পর সেখানেই তিনি সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে গতকাল বেলা ১২টায় মারা যান।

চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের আমীর ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন এ ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকান্ড দাবি করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

এ ঘটনায় নিহত হাফিজুর রহমানের ভাই বাদী হয়ে জীবননগর থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৮ থেকে ৯ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর জীবননগর থানা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট যৌথ অভিযানে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মেহেদী হাসান, তার বাবা বিএনপির কর্মী জসিম উদ্দিন এবং হাসাদহ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ স¤পাদক মো. আবদুস সালামকে গ্রেপ্তার করে।

জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ দুপুরে মফিজুর রহমান মারা গেছেন বলে জানতে পেরেছি। তার বড় ভাইয়ের হত্যা মামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে গতকাল বাদ আসর এই ঘটনার প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামের জীবননগর কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বাসস্ট্যান্ড ট্রাফিক আইল্যান্ডে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা নিহত হাফিজুর ও মফিজুর রহমানের হত্যাকান্ডে জড়িত বিএনপি কর্মীদের গ্রেপ্তার ও ফাসির দাবি জানানো হয়। এ সময় জীবননগর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা সাজেদুর রহমান, জেলা প্রশিক্ষণ স¤পাদক জিয়াউল হক, জেলা মাজলিসুল মুফাসসিরিন পরিষদের সভাপতি মাওলানা হাফিজুর রহমান, জীবননগর উপজেলা জামাতের নায়েবে আমীর সাখাওয়াত হোসেন, হাফেজ বিল্লাল হোসেন, উপজেলা সেক্রেটারি মাহফুজ আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।