রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানার সামনে থেকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া কন্টেন্ট নির্মাতা আরএস ফাহিম চৌধুরীকে জুলাই আন্দোলনের সময়কার একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গুলশান থানার সেই মামলায় গতকাল সোমবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে হাজির করা হয় ফাহিমকে। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

তদন্ত কর্মকর্তা ছুটিতে থাকায় গুলশান থানার ওসি আসামীকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন। আসামীর আইনজীবীরা জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে বিচারক আজ মঙ্গলবার জামিন শুনানির তারিখ রাখেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন বলেন, আসামীর আইনজীবীরা জামিন চেয়ে আবেদন করেন। আমরা রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করতে প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু আসামীপক্ষ আজ মঙ্গলবার জামিন শুনানি করতে চায় মর্মে আদালতকে জানায়। আদালত আসামীকে কারাগারে পাঠিয়ে আজ মঙ্গলবার জামিন শুনানির দিন রেখেছেন।

আদালতে ফাহিমকে অশ্রুসিক্ত দেখা যায়। দেয়ালের সঙ্গে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। এসময় আইনজীবীরা তার সঙ্গে কথা বলেন, অভয় দেন।

ফাহিমের মামি মুক্তা বেগম কাঠগড়ার কাছে গিয়ে ফাহিমকে সান্ত¡না দিয়ে বলেন, তুমি ভেঙে পড়বে না। সততার একটা লাঠি আছে।

রোববার রাজধানীর মিরপুর চিড়িয়াখানা এলাকায় জনতার হাতে ধরা পড়েন ফাহিম। পরে খবর পেয়ে শাহ আলী থানা পুলিশ এসে ফাহিমকে নিয়ে যায়। এরপর তাকে গুলশান থানার হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গুলশানের শাহজাদপুর সুবাস্তু মার্কেটের সামনে হাজারো ছাত্র-জনতা মিছিল করছিলেন। তখন আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আন্দোলনকারীদের ওপর গুলী চালায়। এসময় মো. ইমরান নামে ৩০ বছর বয়সি একজন গুলীতে আহত হন। পরে তাকে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হলে সেদিন সন্ধ্যায় মারা যান। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের এপ্রিলে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করা হয়।