বাউফল (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা : পটুয়াখালী-২ আসনের বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী মিছিলে বিএনপি কর্মীদের হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর, সেক্রেটারি ও নারী কর্মীসহ অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুর ১২:০০ টায় চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে তোর গ্রামে খানকার বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভান্ডারিয়া বাজার এলাকায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে জামায়াতের নারী কর্মীরা প্রচারণা চালালে ধানের শীষ সমর্থিত বিএনপি কর্মীরা তাদের বাধা দেয়। এ সময় নারী কর্মীদের টেনে-হিঁচড়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

পরবর্তীতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চরঅডেল খানকা বাজার থেকে দাঁড়িপাল্লার সমর্থনে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের একটি মিছিল শুরু হলে বিএনপি কর্মী সোহেল রাড়ি (৩৫), আনোয়ার (৪০), মোহাম্মদ (৪৫), আবু কালাম (৪৫), নাইম (৩০) ও ফিরোজ (৩৫)-এর নেতৃত্বে প্রায় দেড় শতাধিক লোক রামদা, চাইনিজ কুড়াল, রডসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মিছিলে পেছন দিক থেকে হামলা চালায়। এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে জামায়াত কর্মীদের আহত করা হয়। একপর্যায়ে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে।

হামলায় আহতদের মধ্যে দাঁড়িপাল্লার সমর্থিত জামাল মেধা (২২), মিয়া জান, আবুল হাশেম (৪৪), জুয়েল (৩৪), নয়ন (১৭), সজীব মাঝি (১৭), শাহজালাল (২০), আলামিন (২৫), সাইফুল (৩৫), সুজন (৩২), রোজিনা (৩২), তানজিলা (২৬), আশরাফুল (৪০), নূর মাদবার (৩৮), আমিনুল (৩২), ইব্রাহিম (৩০), সালাম (৩০), সোহেল (১৮), আব্দুস সুবহান (৪০), আনিসুর রহমান (৫৫), শহিদুল (২৮) ও সোহরাব (২৭) রয়েছেন। তাদের বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় দেলোয়ার হোসেন মৃধা নামে একজন বিএনপি কর্মীও আহত হন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আ: জানান, আহত ২২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে জামাল মৃধা নামে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আরও পাঁচজনের অবস্থাও গুরুতর বলে জানান তিনি। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার প্রতিবাদে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের হাজারো নেতাকর্মী বিভিন্ন দিক থেকে বাউফল শহরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। তারা হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বাউফল থানার ওসিকে প্রত্যাহারের দাবিও তোলা হয়।

এদিকে হামলার ঘটনায় আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি বলেন, প্রশাসন নিরপেক্ষতা হারালে একের পর এক সহিংস ঘটনা ঘটতেই থাকে। এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তিনি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে অবিলম্বে ওসিকে প্রত্যাহার এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তিনি বাউফলবাসীকে ১২ তারিখ ব্যালটের মাধ্যমে এর উপযুক্ত জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তারা খোঁজখবর নিয়েছে। এ বিষয়ে থানায় মামলা হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।