দাউদকান্দি (কুমিল্লা) সংবাদদাতা: রাস্তার বেহাল দশায় কেবল মানুষ বা যানবাহন নয়, থমকে গেছে তথ্যের প্রবাহও। কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় একসময় সংবাদপত্রের ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা থাকলেও গত পাঁচ বছর ধরে সেখানে পৌঁছাচ্ছে না কোনো দৈনিক পত্রিকা। মেঘনা উপজেলা থেকে ভাটেরচর সড়কের প্রায় সাড়ে ৯ কিলোমিটার অংশের ভয়াবহ অবস্থার কারণে হকাররা পত্রিকা সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে এক প্রকার ‘তথ্য ও সচেতনতার সংকটে’ দিন পার করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একসময় মেঘনার গ্রামাঞ্চলেও নিয়মিত সংবাদপত্র পৌঁছে যেত।

বৃহত্তর কুমিল্লা জেলার পত্রিকার ডিলার মোহাম্মদ আলী জানান, মেঘনায় পাঠকের সংখ্যা ছিল সন্তোষজনক। কিন্তু সাড়ে ৯ কিলোমিটারের ওই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে থাকায় কোনো হকার সেখানে যেতে রাজি হচ্ছেন না।”দীর্ঘদিন ধরে এই উপজেলায় পত্রিকা পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। আমি শুনেছি রাস্তায় মেরামতের কাজ চলছে। কাজ শেষ হওয়ামাত্র আমি নিজ উদ্যোগে হকার নিয়োগ দিয়ে আবারও মেঘনায় সংবাদপত্রের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনবো।” সংবাদপত্রের এই অনুপস্থিতি স্থানীয় সচেতন মহলে গভীর ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি করেছে। চন্দনপুর বাজারের পল্লী চিকিৎসক জসীম উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, “প্রায় পাঁচ বছর ধরে আমাদের এলাকায় কোনো পত্রিকা আসে না। মোবাইলে খবর পড়লেও কাগজের পত্রিকার সেই স্বাদ ও বিশ্বাসযোগ্যতা পাওয়া যায় না। আমরা প্রতিদিনের টাটকা খবর থেকে বঞ্চিত।”অনুরূপ অভিজ্ঞতা মানিকারচর বাজারের “মেঘনা জেনারেল হাসপাতালের” পরিচালক মোসাঃ সাথী আক্তারের। তিনি বলেন, “হাসপাতালে আগে নিয়মিত পত্রিকা আসত, যা রোগী ও স্বজনরা পড়তেন। ৫ বছর ধরে সড়কটি আমাদের তথ্যবিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। এটি কেবল যাতায়াত সমস্যা নয়, বরং একটি উপজেলার মানুষের সচেতন হওয়ার পথে বড় বাধা।”রাস্তার এই বেহাল দশা থেকে কবে মুক্তি মিলবে জানতে চাইলে মেঘনা উপজেলা প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম আশার কথা শুনিয়েছেন। তিনি বলেন, “আশা করছি এই রাস্তাটির মেরামতকাজ খুব শীঘ্রই সম্পন্ন হবে।”

এদিকে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে খিরাই নদের ওপর স্থাপিত একটি বেইলি সেতুর পাটাতন ভেঙে গাছের গুঁড়িবোঝাই ট্রাক আটকে পড়েছে। গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাত থেকে শুরু হওয়া এই অচলাবস্থার কারণে মতলব-দাউদকান্দি আঞ্চলিক সড়কে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ফলে দাউদকান্দি, চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ ও কচুয়া উপজেলার কয়েক হাজার মানুষকে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।সরেজমিনে দেখা যায়, রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে সেতুর ওপর আটকে থাকা ট্রাকটি থেকে গাছের গুঁড়িগুলো নামিয়ে সেটি উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন চালক ও তাঁর সহকারী। স্থানীয়রা জানান, শনিবার রাতে গাছের গুঁড়িবোঝাই ট্রাকটি সেতুর মাঝামাঝি পৌঁছালে জরাজীর্ণ দুটি স্টিলের প্লেট ভেঙে চাকা আটকে যায়।ট্রাক চালকের সহকারী জাহিদ হাসান বলেন, “আমরা সরকারি গাছের গুঁড়ি নিয়ে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনা ঘাটে যাচ্ছিলাম। সেতুর ওপর উঠার পর হঠাৎ বিকট শব্দে পাটাতন ভেঙে চাকা দেবে যায়। ভাগ্য ভালো থাকায় আমরা দুজনেই লাফিয়ে নেমে প্রাণে রক্ষা পেয়েছি।”অনুসন্ধানে জানা গেছে, দাউদকান্দির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং পার্শ্ববর্তী মতলব দক্ষিণ ও কচুয়া উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে ২০০০ সালের ২১ অক্টোবর এই বেইলি সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

গোপালপুর (টাঙ্গাইল) : টাঙ্গাইলের গোপালপুর পৌরশহরের হাটবৈরাণ গ্রামে বৈরাণ নদের উপর ব্রিজটি এখন ঝুঁকিপূর্ন। এলজিইডি এ জীর্ন ব্রিজটিকে বিপজ্জনক ঘোষণা করলেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাতদিন পারাপার হচ্ছে যানবাহনসহ হাজারো মানুষ।

গোপালপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জানান, নব্বইয়ের দশকে হাটবৈরাণ এলাকায় বৈরাণ নদের উপর পৌর ফান্ডের টাকায় দুটি পৃথক সেঁতু নির্মিত হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদী খননের ফলে হাটবৈরাণ পশ্চিমপাড়া সেঁতুর সবকটি পিলার আলগা হয়ে যায়। পরবর্তীতে সেটি নদে ধ্বসে পড়ে। এরপর হাটবৈরাণ পূর্বপাড়া সেতুঁর উপর বেশি চাপ পড়ে। এটির অবস্থাও খুব খারাপ। এখানে নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রকল্প দাখিল করা হয়েছে কিন্তু বরাদ্দ মিলছেনা। খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ব্রিজের দুই পাশের রেলিং ভেঙ্গে গেছে। পাটাতনে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বিম, উইং ওয়াল ও অ্যাবাটমেন্টে ফাটল ধরেছে। পাউবোর নদী খননের ফলে মাটি সরে গিয়ে সেঁতুর দুটি পিলার একদম আলগা হয়ে গেছে। ফলে সেতুঁটি যে কোন সময়ে ধ্বসে পড়তে পারে। হাটবৈরাণের বাসিন্দা এবং মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক আমিনুল ইসলাম জানান, শহরবাসি ছাড়াও ধোপাকান্দি ও নগদাশিমলা ইউনিয়নের দশ গ্রামের হাজারো মানুষ সেঁতু দিয়ে শহরে যাতায়াত করে। ব্যবসায়ী ও কৃষকরা পণ্য পরিবহন করে। দুই পাড়ের স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা জীবন হাতে নিয়ে পারাপার হয়। সেঁতুতে বড় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। মাঝারি যান উঠলেই সেঁতু কাঁপতে থাকে। তার অভিযোগ এলজিইডির নতুন আরসিসি ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পটি দুই বছর ধরে ফাইলবন্দী।

গোপালপুর জামায়াতের আমির মোঃ হাবিবুর রহমান তালুকদার জানান, এই ব্রিজটি অনেকদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে আমি এই ব্রিজটি দ্রুত নির্মাণের জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যেকোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে তাই জনদুর্ভোগ লাগবের জন্য হাটবৈরান ব্রিজ নির্মাণ করা অতীব জরুরি।