যশোরের কেশবপুরে একটি কলেজ ও একটি স্কুলের নানা সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রায় ৮৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য ও যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।

যশোরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আঞ্জুমান আরা বেগমের আদালতে মামলাটি করেন শহীদ লে. মাসুদ মেমোরিয়াল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মশিয়ার রহমান। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী তাহমিদ আকাশ।

মামলার অন্য তিন আসামি হলেন- শাহীন চাকলাদারের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আলমগীর সিদ্দিকি টিটো, তার স্ত্রী শামীমা পারভিন রুমা এবং মাগুরখালী গ্রামের মৃত সোবহান গাজীর ছেলে রবিউল ইসলাম।

বাদী মশিয়ার রহমান মামলায় অভিযোগ করেন, সাবেক এমপি শাহীন চাকলাদার ক্ষমতায় থাকাকালীন তার ঘনিষ্ঠ এই ব্যক্তিরা নিয়োগ, বদলি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির নামে অর্থ বাণিজ্য করতেন। সেই সুবাদে বাদী মাসুদ মেমোরিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ এবং রেজাকাটি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্বে থাকায় ওই দুই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

তারা কলেজের স্নাতক ও বিএমপি শাখা এবং কৃষি ডিপ্লোমা শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি এবং স্কুলের মাধ্যমিক শাখার এমপিও আদেশ করে দেয়ার শর্তে ৮৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে ২০২০ সালের ২ অক্টোবর থেকে ২০২১ সালের ৩০ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে আলমগীর সিদ্দিকি টিটোর বাসায় একাধিক দফায় আসামিদের হাতে টাকা হস্তান্তর করা হয়। আসামিরা মেশিনে গুণে টাকা গ্রহণ করেন এবং শাহীন চাকলাদারও তা গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ করেন বাদী।

তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও প্রতিশ্রুত কাজগুলো সম্পন্ন করা হয়নি। টাকা ফেরত চাইলে বাদীকে ভয়ভীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব দেখানো হয়। এমনকি ২০ জুন বাদী টাকা ফেরত চাইতে গেলে আসামিরা জানিয়ে দেন, টাকা ফেরত দেয়া হবে না। আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসছে উল্লেখ করে তাকে হুমকি-ধমকিও দেয়া হয়। অবশেষে দীর্ঘদিন ভোগান্তির পর সাহস করে বাদী আদালতের শরণাপন্ন হন এবং মামলা দায়ের করেন।