পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের নবনির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল একটি আন্দোলন ও সংগ্রামের নাম। তিনি ছোটবেলা ঈশ্বরদী শহরের ভেলুপাড়া এলাকার আলো বাতাসে বেড়ে উঠেছে। ছাত্র জীবন থেকেই ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী হিসেবে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি অধ্যায়নকালে বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী ছাত্রশিবির শাখার সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় ছাত্র শিবিরের কার্যকরী পরিষদের সদস্যর দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামীর পাবনা জেলা শাখার সেক্রেটারি দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন শেষে বর্তমানে পাবনা জেলা জামায়তের আমির ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসের শুরা সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৪ ( ঈশ্বরদি- আটঘরিয়া ) নির্বাচনী এলাকা থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।কর্মজীবনের তিনি পাবনা শহরের জাগির হোসেন একাডেমী ও পাবনা ইসলামিয়া ডিগ্রী কলেজের অধ্যাপনা করেন। সমাজের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সাহিত্য, সংস্কৃতির বিভিন্ন কর্মকান্ডের সাথে সম্পর্ক রয়েছে। তিনি মানুষকে সহজে আপন করে নিতে পারেন, যার ফলশ্রুতিতে তিনি আজ গণমানুষের জননেতায় পরিণত হয়েছেন। তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবার পর দৈনিক সংগ্রামকে একটি সাক্ষাৎকার দেন। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন দৈনিক সংগ্রামের পাবনা জেলা সংবাদদাতা রফিকুল আলম রঞ্জু। তার সাক্ষাৎকারে ঈশ্বরদী আটঘরিয়া তথা সারা দেশের কর্মকা-ের ছবি প্রতিফলিত হয়। ঈশ্বরদী–আটঘরিয়ার মধ্যে উন্নয়নের বৈষম্য দূর করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও টেকসই জনপদ গড়ে তোলাই তাঁর মূল লক্ষ্য।

প্রশ্ন: অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল আপনি এমপি নির্বাচিত হয়েছেন, আপনার অনুভূতি কী?

অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল: আমি মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। ঈশ্বরদী–আটঘরিয়ার জনগণ আমাকে যে আস্থা ও দায়িত্ব দিয়েছেন, তা আমি আমানত হিসেবে নিয়েছি। আমি নেতা হতে চাই না—জনগণের সেবক হতে চাই। ইনশাআল্লাহ, দল-মত নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করবো।

প্রশ্ন: আইন প্রণয়নে আপনার পরিকল্পনা কেমন হবে?

উত্তর :দেশের কল্যাণে আইন প্রণয়ন, আইনের সংযোজন, বিয়োজন এর মাধ্যমে দেশকে একটি ন্যায়,ইনসাফ ভিত্তিক কল্যাণ ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সাধ্যমত চেষ্টা করব।

প্রশ্ন: আপনার নির্বাচনী এলাকায় অবহেলিত স্বাস্থ্য খাতে কোন কোন বিষয় অগ্রাধিকার দিবেন?

উত্তর: ঈশ্বরদী-আটঘরিয়ার সরকারি হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নিয়োগ নিশ্চিত করে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা এবং গ্রামীণ জনগনের জন্য কমিউনিটি ক্লিনিকের মান উন্নয়ন করার চেষ্টা করব।

প্রশ্ন: ঈশ্বরদীর রেল ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় আপনার পরিকল্পনা কী?

উত্তর: ঈশ্বরদী দেশের অন্যতম বৃহৎ রেল জংশন। তাই—

ঈশ্বরদী রেলগেটে ফ্লাইওভার/আন্ডারপাস নির্মাণ এর পাশাপাশি রেল স্টেশন কে আধুনিকায়ন এবং পাবলিক টয়লেট বিশ্রামাগার উন্নত করা।

যোগাযোগের ক্ষেত্রে ঈশ্বরদী বিমানবন্দর পুনরায় চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ।

ডাবল রেললাইন সম্প্রসারণ ও সিগন্যালিং আধুনিকায়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ রুটে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন সার্ভিস চালু করুন।

প্রশ্ন: কৃষি ও শিল্পখাতের পরিকল্পনা বলবেন কি?

উত্তর: কেন নয়। কৃষি ও শিল্প নির্ভর এ অঞ্চলে

বন্ধ পাবনা চিনিকল পুনরায় চালুর উদ্যোগ।

কৃষিজাত পণ্য সংরক্ষণে হিমাগার ও প্রক্রিয়াজাত কারখানা স্থাপন।

আটঘরিয়ার কুটির শিল্প পুনরুজ্জীবন।

পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে পাকশীকে উন্নত পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর করার ইচ্ছা রয়েছে।

প্রশ্ন : শিক্ষাক্ষেত্রে আপনার এলাকার পরিকল্পনাকে কী?

উত্তর : শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধন এবং এবং নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এমপিওভুক্তকরণ।

ঈশ্বরদী সরকারি মহিলা কলেজ কে জাতীয়করণ, সরকারি কলেজে মাস্টার্স কোর্স চালু করুন,,আটঘরিয়ায় একটি আধুনিক কৃষি কলেজ ও ট্রেনিং ইনস্টিটিউট স্থাপন

আটঘরিয়ায় আধুনিক কৃষি কলেজ ও ট্রেনিং ইনস্টিটিউট স্থাপন।

সরকারি কলেজে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বাসসেবা চালু।

নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তকরণ।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন ভবন নির্মাণ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি। এলাকার সকল শ্রেণীর মানুষের পাঠ্যবাদের গড়ে তোলার জন্য একটি

আধুনিক গণগ্রন্থাগার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে ।

প্রশ্ন : আপনার উল্লেখিত পরিকল্পনার পাশাপাশি আর কি কি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন?

ঈশ্বরদী আবুল মনসুর খান স্টেডিয়াম আধুনিকায়ন ও আটঘরিয়ায় নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণ।

সকল মসজিদ, মন্দির ও ঈদগাহের উন্নয়নে সহযোগিতা।

দুই উপজেলায় পৃথক দুটি আধুনিক অডিটোরিয়াম নির্মাণ।

এছাড়াÑ

গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা পাকা করা।

উভয় উপজেলায় আধুনিক শিশুপার্ক নির্মাণ।

দুর্গম চরাঞ্চলে যোগাযোগের জন্য পাকা রাস্তা নির্মাণ।

দুর্গম চরাঞ্চলে প্রয়োজনীয় পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন।

মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি।

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটমুক্ত রাখা।

দৈনিক সংগ্রাম: দৈনিক সংগ্রামকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ

উত্তর : দৈনিক সংগ্রামকেও ধন্যবাদ.।