বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা : রাজশাহীর বাগমারায় সারা দেশের ন্যায় আসন্ন রমযানে গুড়, খেজুর ও মাছ-মাংসের দাম ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। রমযানের আগে এমন দাম বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন স্বল্প আয়ের মানুষ। মাত্র ১০/১২ দিনের ব্যবধানে গুড়ের বাজারে গিয়ে দাম শুনে গুড় কিনতে পারেননি অনেকেই। সমস্ত দিন পরে ইফতারে গুড়-খেজুর না হলে তৃপ্তিতে ভোগতে হবে বলে জানিয়েছেন স্বল্প আয়ের মানুষ বালানগর গ্রামের রফিকুল ইসলাম। পেশায় কৃষক রফিকুল নিজের তেমন জমিজমা নেই। বর্গাচাষের আয়ের মাধ্যমে সংসার চলে। তিনি বলেন, যা ক্রয় করতে যায় তার দাম বেশী, আর বিক্রয় করতে গেলে দাম কম। এতে বিপাকে পড়েছেন বলে জানান। মাত্র কয়েক দিন আগে মাছ মাংসের দাম তাও নাগালের মধ্যে ছিল। হঠাৎ করে রমযানের আগামনে মাছ-মাংস কিনা দায় হয়ে পড়েছে। গ্রামের বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, রমযানে ইফতারে তৃপ্তিদায়ক গুড়ের সরবত আর খেজুর না হলে মনটা ভরে না। তাই খেজুর আর গুড়ের দাম বৃদ্ধিতে কিনা দায় হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেন। বালানগর গ্রামের কৃষক আনিছুর রহমান বলেন, আমরা কৃষক মানুষ যা কিনতে যায় তার দাম বেশী আর বিক্রি করতে গেলে দাম কমতি। বড় জ¦ালাই আছি! নিজে তেমন খাটতে পারি না। শ্রমিকের মজুরী বেশী। রমযানে বাড়তি দামে মাছ-মাংস কিনিতে পারবো না। শাক-সবজি খেয়েও রোজা রাখা কষ্ট হয়ে পড়বে বলে জানান।

গত সোমবার উপজেলা সদর ভবানীগঞ্জ মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সোনালী মুরগী কেজিতে ৩৮০ টাকা, বয়লার মুরগি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা, দেশী মুরগী ৪৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায় কেজিতে। এছাড়া টেংরার কেজি ৬৫০ টাকা, তেলাপিয়া মাছের কেজি ২৭০ টাকা, শিং মাছ ৬০০ টাকা কেজি, পাংাসের কেজি ২৪০ টাকা, ছোট রুই ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ এ সব মাছ-মাংসের দাম এক সপ্তাহ আগে পঞ্চাশ টাকা থেকে এক শত টাকা কমতিতে বিক্রি হয়েছে।

একই ভাবে গত সপ্তাহে তুলনায় প্রতিটি সবজিতে প্রকারভেদে দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা।