বিরামপুর ও নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) সংবাদদাতা : দিনাজপুর জেলার বিরামপুর ও নবাবগঞ্জ উপজেলার পৌর শহর সহ প্রতিটি ইউনিয়নের গ্রামগঞ্জে আমের মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে ফাল্গুনের বাতাসে মিষ্টি ঘ্রাণ ছড়াচ্ছে। আমের মুকুলে গাছ এমন ভাবে ছেয়ে গেছে গাছের পাতাও দেখা যাচ্ছে না। উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, এবার ছোট বড় সব গাছেই মুকুলে ভরে গেছে। এমন কোন গাছ নেই যে মুকুল আসেনি। বাড়ির আঙ্গিনায়, রাস্তার ধারে, পুকুরপাড়, কিংবা আমবাগানে সব গাছে ডাল ভর্তি হলুদ রঙের মুকুলের সমারোহ। আমের মুকুলের ভারে ডাল নুয়ে পড়েছে। কোন কোন গাছে আমের গুটি উঁকি দিচ্ছে। উপজেলায় বিভিন্ন জাতের আম চাষ হয়ে থাকে এর মধ্যে আম্রপলি, হিমসাগর, ল্যাংড়া, গোবিন্দভোগ ক্ষীরসাপাতি, গোপাল ভোগ, বারী-৪ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। আম চাষিরা এখন পর্যন্ত আবহাওয়া আমের অনুকূল পর্যায়ে আছে বলে জানান। কোন দুর্যোগ না আসলে এবার আমের বাম্পার ফলন আশা করছেন আম চাষিরা। আম চাষিরা মুকুল আসার আগে শোযক জাতীয় পোকা নিধনের জন্য ইমিডাক্লোপিড একদিন পর ম্যানকোজেব গ্রুপের কীটনাশক স্প্রে করেছেন। বাগান মালিক এবং আম ব্যবসায়ীরা গাছে মুকুল ঝরে না যাওয়ার জন্য এবং গুটি রক্ষার জন্য পর্যবেক্ষণে ব্যস্ত।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী প্রচারণায় দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় সরকারি ডিগ্রী কলেজ মাঠে বক্তব্যে বলেন, দিনাজপুরের আম বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দিনাজপুরের পরিচিতি আসবে। আম চাষি এবং ব্যবসায়ীরা আমের ন্যায্য মূল্য পাবেন বলে আসা পোষণ করছেন।
আমবাগানজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাকৃতিক সুবাস , চাষি ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি : আমাদের নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) সংবাদদাতা সাইদুর রহমান সুমন জানান, বসন্তের আগমনী বার্তায় দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় আম ও লিচুর বাগানগুলো উৎসবমুখর। চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে মুকুলের ম-ম সুবাস। গ্রামাঞ্চলের বাগানপাড়া মুখর হয়ে উঠেছে প্রকৃতির স্নিগ্ধ আবেশে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, গাছে গাছে নতুন মুকুলে ছেয়ে গেছে আম ও লিচুর বাগান। স্থানীয় চাষিরা জানাচ্ছেন, অনুকূল আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত রোদ-বাতাসে এ বছর মুকুলের পরিমাণ বেশি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা পোকার আক্রমণ না হলে এবার ভালো ফলনের সম্ভাবনা প্রবল।
হলাইজানা গ্রামের কৃষক আবু রায়হান বলেন, “গত বছরের তুলনায় এবারের আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাগান পরিচর্যায় আমরা বেশি যতœশীল। ইতোমধ্যেই গাছে প্রয়োজনীয় কীটনাশক ও পরিচর্যার কাজ শুরু করেছি।”
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ হাবীব জানান, চলতি মৌসুমে নবাবগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৯০৮ হেক্টর জমিতে আম এবং ২৯২ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয়েছে। তিনি বলেন, “এ বছর আবহাওয়া এখন পর্যন্ত অনুকূলে রয়েছে। কৃষকরা যদি সময়মতো পরিচর্যা, সেচ ও রোগবালাই দমনে সচেতন থাকেন, তাহলে ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন ও কারিগরি পরামর্শ প্রদান করছে।”
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, নবাবগঞ্জের অর্থনীতিতে আম ও লিচুর গুরুত্ব অপরিসীম। মৌসুমকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয় ব্যাপক কর্মসংস্থান; উপকৃত হন বহু কৃষক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ী। তাই মুকুলের সমারোহ গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন আশার আলো জাগিয়েছে।
সবমিলিয়ে, আম-লিচুর মুকুলে সুবাসিত নবাবগঞ্জে বসন্তের প্রাণের জোয়ার বইছে। অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে চাষি ও বাগান মালিকরা বাম্পার ফলনের আশা নিয়ে আশাবাদী।