ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা
ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসেন বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, টেকনাফ থেকে তেতুঁলিয়া, রুপসা থেকে পাথুরিয়া, সারা বাংলাদেশের প্রতিনিটি প্রান্তরে মানুষ জন¯্রােতের মতো করে দাঁড়িপাল্লা এবং ১১ দলের পক্ষে যখন সমবেত হচ্ছে, তখন তাদের মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তারা জিততে পারবে না, এটা নিশ্চিত হয়ে গেছে। যার কারণে আজকে তারা পাগল হয়ে গেছে। আমাদের মহিলা কর্মীদের বাঁধা দিচ্ছে, তাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। পুরষ কর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে, তাদের বাড়ি ভিতরে গিয়ে হামলা করছে, হুমকি দিচ্ছে। গত বুধবার শেরপুরে হামলা চালিয়ে একজন জামায়াত নেতাকে নির্মমভাবে হামলা চালিয়ে শহীদ করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত দাঁড়িপাল্লার নির্বাচনী জনসভায় বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, ৫ আগস্টের গণঅভ্যূত্থানের পর আমরা ভেবেছিলাম দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হবে। খুন, রাহাজানী, হত্যা, ধর্ষন, চাঁদাবাজি কমে যাবে। কিন্তু আমাদের সেই স্বপ্ন আজকে যেন ধূলিস্মাৎ হতে চলেছে। ৫ আগস্টের পরের দনি থেকেই যেভাবে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, টেন্ডারবাজি শুরু হয়েছিল, যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে পাথর দিয়ে মানুষকে মেরে হত্যাযজ্ঞ শুরু হয়েছে, এই দৃশ্যগুলো দেশের মানুষকে এতোটাই হতবাক করে দিয়েছিল যে, আমরা যে স্বপ্ন, আকাঙ্খা নিয়ে আমরা রক্ত দিয়ে জীবন দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়লাম , সেই বাংলাদেশের স্বপ্ন ধূলিস্মাৎ হয়ে গেলো। শুধু তাই নয়, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির রেট বেড়ে গেছে। আযে যা হতো তা এখনো হয়, সবই ঠিক আছে মাঝখানে শুধু হাত বদল হয়েছে।
এসময়, উপস্থিত জনগণের নিকট প্রশ্ন রেখে দেলাওয়ার হোসেন বলেণ, গত এক বছরে যারা চাঁদাবজি করলো, টেন্ডারবাজি করলো, দখলবাজি করলো, সনাতন ধর্মের মানুষদের কাছে রাতের আধাঁরে যারা চাঁদাবাজি করলো, তাদের ঘর থেকে সর্নালঙ্কার যারা লুঠ করলো, মানুষের ওপর মিথ্যা মামলা দিয়ে মানুষের ওপর জুলুম চালালো, তাদেরকে আগামী দিনে আমরা রাষ্ট্র ক্ষমতায় দেখবো? জবাবে উপস্থিত জনগণ উচ্চকণ্ঠে জবাব দেন, না।
পরক্ষণেই দেলাওয়ার হোসেন বলেন, আমি মনে এক বছরের চাঁবাজির জন্য টেন্ডারবাজির জন্য, সন্ত্রাসী কার্যক্রমের জন্য, মানুষ হত্যার জন্য আগে জনগণের কাছে আপনাদেরকে ক্ষমা চাইতে হবে। তারপরেই আপনারা জনগণের কাছে ভোট চাইতে পারবেন। তার মানুষ আপনাদেরকে গ্রহণ করবে না। গতকালকে শেরপুরে আমাদের একজন ভাইকে নির্মমভাবে শহীদ করা হয়েছে। সারাদেশে তারা রক্তের হোলি খেলা খেলছে। তাদের সকল কর্মকান্ডের জবাব আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যলট বিপ্লবের মাধ্যমে দেয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, আমরা আপনাদেরকে আশ^স্ত করছি আগামী দিনে যদি আপনারা জামায়াতের নেতৃত্ব ১১ দলীয় জোটকে দেশ পরিচালনা দায়িত্ব দেন, তাহলে এই ঠাকুরগাঁওকে আমরা নতুন করে সাজাবো। এখানে বিশ^বিদ্যালয়, হবে, মেডিকেল কলেজ হবে, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হবে, ইপিজেড হবে, বন্ধ বিমান বন্দর পুনরায় চালু হবে, শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে অর্থনীতির চাকা সচল করা হবে ইনশাআল্লাহ।
জামায়াত প্রার্থী বলেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে নারীদের প্রাপ্য সম্মান, ন্যায্য অধিকার, যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। শুধু তাই নয়, তারা সাবলম্বী হবে পারে, সেজন্য তাদের উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিভিন্ন কর্মস্থানের ব্যবস্থা করা হবে ।
এ সময় জামায়াতের জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাও. সোলায়মান আলী, সদর উপজেলা আমীর মাও. মিজানুর রহমান, ওলামা মাশায়েখ পরিষদের ঠাকুরগাঁও পৌর সভাপতি মাও. আ.ন.ম আব্দুল হাকিম জিহাদি, জেলা এনসিপির সভাপতি রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।