ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ইতিহাসের নিকৃষ্ট স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়ে যে গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত হয়েছে জুলাইয়ের সে ঐক্যকে ধরে রাখাতে হবে। সেভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে একটি সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে গড়ে তুলতে হবে। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে জুলাই আন্দোলন সফল হবে। রাজনৈতিক আন্দোলনের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক আন্দোলন সফল করতে হবে। সাংস্কৃতিক বিপ্লবের মধ্যদিয়েই আমরা কেবল আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছতে পারব। তিনি বলেন, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের দলীয় লেজুরবৃত্তি করা উচিত নয়। শিক্ষকদের কাজ জ্ঞান বিতরণ করা। সাংবাদিকের কাজ নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন। কেউ দলবাজি করেই শিক্ষক হোন বা পদে সমাসীন হোন। এটা লজ্জাজনক বিষয়। এতোগুলো সংস্কার কমিশন হলো একটা শিক্ষা কমিশন হলো না। ড. কুদরত-ই-খোদার শিক্ষা কমিশণ ভালো রিপোর্ট দিয়েছিন,তার একটি লাইনও বাস্তবায়িত হয়নি। পনেরো বছরের দুঃশাসনে শিক্ষাব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।
গতকাল শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের মওলানা আকরম খাঁ মিলনায়তনে জাতীয় সাহিত্য-সাংস্কৃতিক ঐক্যজোট আয়োজিত ‘নির্বাচনী চ্যালেঞ্জে জাতীয় ঐক্য: সংস্কৃতিসেবীদের ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন লেখক ও সমাজচিন্তক সৈয়দ তোশারফ আলী, ভাষাসৈনিক ড. মুহম্মদ সিদ্দীক, নাট্যব্যক্তিত্ব বাবুল আহমেদ, ছড়াকার আবু সালেহ, অতীশ দীপংকর ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান শামসুল আলম লিটন, কবি ও সাংবাদিক শামীমা চৌধুরী, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের মহাসচিব রফিকুল ইসলাম, কবি মাহমুদুল হাসান নিজামী, কবি মাহবুব মুকুল, সারেঙ সম্পাদক আবদুর রহমান মল্লিক, লেখক এমদাদুল হক চৌধুরী, কবি শাহ সিদ্দীক প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অ্যাডভোকেট এ বি এম জাহাঙ্গীর হোসেন সোহাগ ও নুর হোসেন রানা। সভায় বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তিতে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
বিশেষ অতিথি সৈয়দ তোশারফ আলী বলেন, দীর্ঘদিন পার্লামেন্ট, নির্বাহী বিভাগ ও জুডিশিয়ারি সঠিকভাবে কাজ করতে পারেনি। প্রধান শক্তি হয়ে উঠেছে আমলা, আর্মি ও ধনিক-বনিক শ্রেণি। দলবাজির কারণে সাংবাদিকতা শেষ হয়ে গেছে। রোমান্টিক আইডিয়া নিয়ে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে পারিনি। ছয় হাজার লঙ্গরখানা করেও আমরা মানুষের ক্ষুধা দূর করতে পারিনি। কিন্তু এতোসব সংকটের মধ্যে দেশটা একদিন সমৃদ্ধি নিয়ে বেরিয়ে আসবে। আঠারো কোটি মানুষের পরাজয় হতে পারে না।