ভারতীয় সীমান্তবর্তী ফেনী জেলার তিনটি উপজেলা পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে দীর্ঘদিন অবাধে ব্যবহার হচ্ছে ভারতীয় বিভিন্ন মোবাইলফোন কোম্পানির সিমকার্ড। শুধু সীমান্তে নয়,ভারতীয় মোবাইলফোন নেটওয়ার্কের তরঙ্গ কম্পাংকের আওতায় রয়েছে ফেনী শহরসহ চার উপজেলার বিশাল এলাকা।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ফেনী সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সিমকার্ড ব্যবহার করে চোরাকারবারিদের সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্ক কাজ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে এর ব্যবহার বৃদ্ধিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ার প্রবণতাও লক্ষ্য করা গেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ভারতীয় সিমকার্ড ব্যবহারের অবাধ সুযোগ নিয়ে অপতৎপরতার শঙ্কাও রয়েছে। এছাড়া ভারতীয় মোবাইল সিমের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী সচেতন নাগরিকদের দাবি, দেশীয় মোবাইলফোন কোম্পানিগুলোর ইন্টারনেট সেবা না পেয়ে এবং উচ্চ মূল্যে এমবি কিনতে বাধ্য হওয়ায় তারা ভারতীয় সিমকার্ড ও অবাধে ইন্টারনেট ব্যাবহার করছে । ব্যবহৃত সিমগুলো ভারতীয় এয়ারটেল, জিও, ভোডাফোন, রিলায়েন্স, এয়ারসেল, টেলিনর সহ বিভিন্ন কোম্পানির সিম।

সীমান্তবর্তী আমজাদহাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর ইব্রাহিম মজুমদার বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি মহল ভারতীয় সিম ব্যবহার করে নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।তারা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

ফুলগাজী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ইতোপূর্বে আমরা ভারতীয় সিমকার্ডের বিষয়ে প্রশাসনকে জানিয়েছি। এটি আমাদের সার্বভৌমত্বের জন্য নিরাপত্তা হুমকি। আমরা এসবের প্রতিকার চাই।

ফেনী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আইনজীবী শাখার সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট এমদাদ হোসাইন দৈনিক সংগ্রামকে জানান, ভিনদেশি সিম রাষ্ট্রের গোপনীয়তার জন্য হুমকি। নির্বাচন উপলক্ষ্যে অবৈধ অস্ত্রও দেশের অভ্যন্তরে এসেছে শুনেছি। বিষয়টি খুবই উদ্বেগ জনক হিসেবে দেখছি।

এদিকে ভারতীয় সিমের অবাধ ব্যবহারের কারণে সীমান্তের ওপারে ভারতীয় চোরাকারবারিদের সঙ্গে বাংলাদেশের চোরাকারবারি ও মানবপাচারকারীরা নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন। তারা মাদকপাচারসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। এতে করে সীমান্ত এলাকায় অপরাধ প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। টাকার লোভে কিশোর, যুবক ও বৃদ্ধরা অবৈধ কারবারে জড়িয়ে পড়ছেন।

ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান বলেন, আমি সদ্য যোগদান করেছি। এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো তথ্য পাইনি। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব। ইতোপূর্বে কাউকে ভারতীয় সিমসহ আটক করা হয়নি।অত্র প্রতিবেদকের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানা যায়, দেড় থেকে ৫ হাজার টাকায় মেলে এসব সিমকার্ড

ছাগলনাইয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন শুভপুর ও মহামায়া, ফুলগাজী উপজেলার সীমান্তবর্তী সদর ইউনিয়ন, আমজাদহাট, আনন্দপুর, মুন্সীরহাট এবং পরশুরাম উপজেলার সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন বক্সমাহমুদ ও মির্জানগরের বিভিন্ন গ্রামে ভারতীয় সিমকার্ডে চলছে ইন্টারনেট ভিত্তিক সকল ব্যবহার। শুধু তাই নয়, ভারতীয় সিমগুলোর ইন্টারনেট তরঙ্গ কম্পাংক ক্ষমতা এতটাই যে, ফেনী শহরে বসেও ভারতীয় মোবাইলফোন কোম্পানির নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে নেট দুনিয়ায় সহজে বিচরণ সম্ভব হচ্ছে।