সাদুল্লাপুর সংবাদদাতা : জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে থাকা এক দগ্ধ গৃহবধূকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু নির্মম বাস্তবতা টাকার অভাবে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা সম্ভব হয়নি। তাই অসহায় পরিবারটি বাধ্য হয়ে সাধারণ বাসেই যন্ত্রণাকাতর সেই মাকে নিয়ে রওনা দিয়েছে।
বাসের সিটে শুয়ে আছেন আগুনে ঝলসে যাওয়া গৃহবধূ। প্রতিটি ধাক্কায় কেঁপে উঠছে তার দগ্ধ শরীর। পাশে বসে আছেন স্বামী, পেশায় কাঠমিস্ত্রি আলম আকন্দ এক হাতে স্ত্রীর হাত ধরে, অন্য হাতে চোখের পানি মুছছেন। কোনো কথা নেই, শুধু আল্লাহর কাছে প্রাণভিক্ষা।
গত ১০ জানুয়ারি সকালে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের তরফমহদী উত্তরপাড়া গ্রামে রান্নার সময় অসতর্কতাবশত কাপড়ে আগুন ধরে গেলে তার শরীরের বড় একটি অংশ মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়। দারিদ্র্যের কারণে শুরুতে উন্নত চিকিৎসা হয়নি। পরে অবস্থার অবনতি হলে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আজ উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেলে পাঠানো হলেও অর্থাভাবে অ্যাম্বুলেন্স জোটেনি।
এই মায়ের ঘরে রয়েছে দুই মেয়ে ও এক ছেলে। বাড়িতে থাকা শিশুরা মায়ের জন্য কান্নায় ভেঙে পড়েছে। পাশের সিটে ছোট্ট মেয়েটির চোখের জল যেন সমাজের বিবেককে প্রশ্ন করেছে“একটু সাহায্য কি আমাদের আম্মুকে বাঁচাতে পারে না?”
পরিবারটি এখন প্রশাসন ও সমাজের হৃদয়বান মানুষের কাছে আকুল মানবিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছে। আজই সহায়তার হাত না বাড়ালে একটি মায়ের জীবন, তিনটি শিশুর ভবিষ্যৎ হারিয়ে যেতে পারে।