যথাযোগ্য মর্যাদা, শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে গাজীপুরে শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ পালিত হচ্ছে। ভাষা শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন ও ভাষা আন্দোলনের চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কয়েক দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো জেলা জুড়ে রয়েছে ভাষার প্রতি ভালোবাসার আবহ।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৭ থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারি জেলা শিল্পকলা একাডেমি, গাজীপুরে ভাষা আন্দোলনভিত্তিক রচনা, চিত্রাঙ্কন, ছড়া পাঠ ও কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব আয়োজনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো, যা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও চেতনার সঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে যুক্ত করেছে।
একুশের প্রথম প্রহর রাত ১২টা ০১ মিনিটে গাজীপুর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনি, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলম হোসেন, গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার এবং জেলা পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিনসহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া গাজীপুর জেলা পরিষদ, গাজীপুর সিটি করপোরেশন, গাজীপুর মহানগর বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনসমূহ, গাজীপুর প্রেসক্লাব এবং জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে একে একে বিভিন্ন সরকারি-আধা সরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন শ্রদ্ধা জানায়।
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্ত্বশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। আজ সকাল থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নাটমন্দিরে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বাদ যোহর গাজীপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদসহ জেলার সকল মসজিদে ভাষা শহিদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। একই সময়ে সকল মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে ভাষা শহিদদের আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। বাদ আসর নলজানীস্থ কবরস্থানে ভাষা শহিদ বরকতের মায়ের কবর জিয়ারত করা হবে। সন্ধ্যা ৬টায় জনবহুল স্থানে ৫২-এর ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানাতে এবং মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার চেতনাকে সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতেই এসব কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। দিনভর নানা আয়োজনে গাজীপুরে ভাষা আন্দোলনের চেতনা প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।