নীলফামারী সংবাদদাতা

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা শহরের ধাইজান ব্রীজের দুই প্রান্তের উইং ওয়াল ও রেলিং ঘেঁষে অবৈধভাবে দোকানপাট ও বাড়ীঘর নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। এতে করে ব্রীজটির ্অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়েছে। এদিকে সড়ক ও জনপদ বিভাগ অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকারীদের নোটিশ দিয়েই তাদের দায়িত্ব শেষ করেছেন। নোটিশ প্রদানের ১ মাস অতিবাহিত হলেও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে নেয়া হয়নি কোন পদক্ষেপ।

নীলফামারী সড়ক ও জনপদ বিভাগের আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে জলঢাকা-কিশোরগঞ্জ (জেড-৫০২২) সড়কের কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে ধাইজান নদীর উপর ৫৭ দশমিক ৭১ মিটার দৈর্ঘ্যরে ধাইজান ব্রীজটি নির্মাণ করা হয়। টেংগনমারী থেকে কিশোরগঞ্জ এবং কিশোরগঞ্জ থেকে রংপুর যাওয়ার একমাত্র সড়ক হচ্ছে এটি। এ কারণে এই ব্রীজটি এই এলাকার মানুষের কাছে খুবেই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালীরা ব্রীজটির দু’প্রান্তের উইং ওয়াল,রেলিং ও পিলার ঘেঁষে অবৈধভাবে দোকানপাট ও বাড়ীঘর নির্মাণের প্রতিযোগিতা শুরু করেছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে প্রভাবশালীরা ব্রীজের পূর্ব ও পশ্চিম দিকের উইং ওয়াল ও ব্রীজের পিলারের সাথে লাগিয়ে ইটের গাঁথুনি দিয়ে ইতিমধ্যে বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্টান,হোটেল ও বাড়ীঘর নির্মাণ সম্পন্ন করেছেন।

স্থানীয়রা জানান ব্রীজের দু’প্রান্তে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে ব্রীজটির অবকাঠামা। ব্রীজটির উইং ওয়াল ও রেলিং ঘেঁষে দোকানপাট নির্মাণ করায় সেখানে প্রতিনিয়ত লোকজনের সমাগম থাকছে। এতে করে যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরণের দুর্ঘটনা। প্রভাবশালীরা দিনে দুপুরে ব্রীজ ঘেঁষে ইট-পাথরের অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করলেও প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করছেন। অথচ এই ব্রীজের উপর দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করছেন উপজেলা প্রশাসনের উদ্ধর্তন কর্মকর্তারা।

এদিকে রিপন মিয়া,সজিব ইসলাম,আলতানুর ইসলাম,বাদশা মিয়া,ওয়াদুদ,নাজমুল,আব্দুল জলিল,ভরত চন্দ্র,জুলহাস ও রফিকুল ইসলামকে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে নোটিশ প্রদান করা হয়। গেল বছরের ১৫ ডিসেম্বর নীলফামারী সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ সরকার স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয় ৫ কর্মদিবসের মধ্যে নিজ খরচে অবৈধ্য স্থাপনা সরিয়ে না নিয়ে হাইওয়ে এ্যাক্ট ২০২১ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। যার স্মারক নং-৮৪৩। কিন্তু নোটিশ দেয়ার ১ মাস অতিবাহিত হলেও নেয়া হয়নি কোন আইনী পদক্ষেপ। উল্টে অবৈধ দখলদাররা বহাল তবিয়তে আরো নতুন নতুন স্থাপনা নির্মাণ শুরু করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ব্যাপারে জানতে নীলফামারী সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সুলতান মাহমুদকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি মোবাইল রিসিভ করেনি।