যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও আবেগঘন পরিবেশে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শনিবার গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচি পালিত হয়। সকাল ৭টায় প্রশাসনিক ভবনসংলগ্ন ৩৬শে জুলাই চত্বরে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। সকাল ৯টা ১০ মিনিটে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন।
আজ সকাল সাড়ে ৯টায় ভিসি প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে প্রশাসনিক চত্বর থেকে প্রভাতফেরী বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিভ্রমণ শেষে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে এসে শেষ হয়।
পৌনে ১০টায় ভিসির নেতৃত্বে প্রথম পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে পর্যায়ক্রমে শিক্ষক সমিতি, শিক্ষকবৃন্দ, প্রাইমারি ও হাই স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা, প্রভোস্ট সমন্বয়ে ৬টি হলের শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর পরিচালক, ছাত্রকল্যাণ, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শরীফ রায়হানের সঞ্চালনায় সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন ভিসি প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান, প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. এম. ময়নুল হক, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সফিউল ইসলাম আফ্রাদ, শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. নাসরীন আক্তার আইভী, সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল আলম, রেজিস্ট্রার মোঃ আবদুল্লাহ মৃধা এবং সিনিয়র শিক্ষক প্রফেসর ড. মোঃ আবু আশরাফ খান।
ভিসি তাঁর বক্তব্যে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ‘প্রেরণা ও সংগ্রামের চিরন্তন উৎস' হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ভাষার জন্য আত্মত্যাগের অনন্য নজির বাংলা ভাষাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে পৌঁছে দিয়েছে। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও নতুন মন্ত্রিসভাকে শুভেচ্ছা জানান। ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান-এর স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে স্বাধীন রাষ্ট্রের পথচলার কথা স্মরণ করে তিনি দেশবিরোধী অপতৎপরতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাদ জোহরে কেন্দ্রীয় মসজিদে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়।