মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, মোংলা সংবাদদাতা: বাংলাদেশে চিটাগুড় আমদানির ক্ষেত্রে নতুন মাইলফলক হিসেবে পাকিস্তানের পর এবার থাইল্যান্ড থেকেও এই পণ্যের আমদানি শুরু হয়েছে। তৃতীয় চালান হিসেবে থাইল্যান্ড থেকে ৫,৫০০ মেট্রিক টন চিটাগুড় নিয়ে পানামা পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমটি হাই হং’ মোংলা বন্দরে পৌঁছেছে।

গত ২৫ জুন এই জাহাজটি বন্দরে নোঙ্গর করে এবং মোংলা বন্দরের ৭ নম্বর জেটিতে চিটাগুড় খালাসের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক মো. মাকরুজ্জামান।

তিনি জানান, এর আগে ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের করাচি বন্দর থেকে প্রথম চালানে ৫,৫০০ মেট্রিক টন এবং ২২ মার্চ দ্বিতীয় চালানে ৬,৫০০ মেট্রিক টন চিটাগুড় মোংলা বন্দরের মাধ্যমে আমদানি ও খালাস করা হয়। এবার তৃতীয় চালান হিসেবে গত ২৫ জুন থাইল্যান্ড থেকে আরও ৫,৫০০ মেট্রিক টন চিটাগুড় এসেছে।

জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট স্টারপাথ শিপিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপক তৈয়েবুর রহমান জানান, গত ১৪ জুন থাইল্যান্ডের ক্যারিসিয়াম বন্দর থেকে এই চিটাগুড় বোঝাই করা হয়। জাহাজটি ২৫ জুন মোংলা বন্দরে পৌঁছায় এবং আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে খালাস কার্যক্রম সম্পন্ন করে রেলযোগে এই পণ্য উত্তরবঙ্গের জয়পুরহাট জেলায় পাঠানো হবে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক মো. মাকরুজ্জামান আরও জানান, ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান থেকে প্রথমবারের মতো ৫,৫০০ মেট্রিক টন চিটাগুড় আমদানি করা হয় পানামা পতাকাবাহী ‘এমটি ডলফিন-১৯’ জাহাজে। এরপর ২২ মার্চ দ্বিতীয় চালানে আরও ৫,৫০০ মেট্রিক টন চিটাগুড় আমদানি করা হয়। তবে তৃতীয় চালানে থাইল্যান্ড থেকে আগত ৫,৫০০ মেট্রিক টন চিটাগুড় বাংলাদেশের আমদানি বৈচিত্র্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তিনি আরও বলেন, এই তরল পণ্য মোংলা বন্দর থেকে খালাসের পর রেলযোগে জয়পুরহাটে পৌঁছে দেশের বিভিন্ন ফিড কোম্পানিতে সরবরাহ করা হবে।

চিটাগুড় আমদানিকারক মো. আনোয়ারুল হক জানান, ভারত সরকারের ৫০ শতাংশ শুল্ক বৃদ্ধির কারণে বিকল্প হিসেবে পাকিস্তান থেকে প্রথমবার চিটাগুড় আমদানি শুরু হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) পাকিস্তান থেকে আমদানি ২৭ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়, যেখানে ভারত থেকে আমদানি প্রায় সাড়ে ৯ শতাংশ কমে যায়। ৫ আগস্টের পর ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রভাব আমদানি কার্যক্রমে স্পষ্ট হয়েছে।

এই নতুন আমদানি পদক্ষেপ বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।