প্রাইভেটকারের ধাক্কায় রিকশা থেকে ছিটকে পড়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) শিক্ষার্থী মৌমিতা হালদার (২৬) মারা গেছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তার বাবা তরুণ হালদার। মৌমিতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি একই ডিসিপ্লিনের ২০২১ ব্যাচের স্নাতকও ছিলেন।
সোমবার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে খুলনা জেলা পরিষদের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খুলনা সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) দেবব্রত বিশ্বাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, বাজার থেকে কেনাকাটা করে খুলনা জেলা পরিষদ এলাকা থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দিকে যাচ্ছিলেন মৌমিতা ও তার বাবা। এ সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেটকার রিকশাটিকে ধাক্কা দিলে মৌমিতা ছিটকে রাস্তায় পড়ে যান এবং মাথা ও ঘাড়ে গুরুতর আঘাত পান।
পরে তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ছোট ভাই জানান, রিকশায় থাকা অবস্থায় পেছন থেকে প্রাইভেটকার ধাক্কা দিলে তার বোন ও বাবা পড়ে যান। এতে তার বাবার হাতে আঘাত লাগে, তবে মৌমিতার অবস্থা গুরুতর ছিল। প্রথমে তাকে খুলনা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে সেখান থেকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. নাজমুস সাদাত জানান, ঘটনাস্থলে তাদের দপ্তরের একজন প্রতিনিধি রয়েছেন এবং মৌমিতার মরদেহ খুলনার মুন্সিপাড়ায় তার বাসায় নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, শিক্ষার্থী মৌমিতা হালদারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন খুবির উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম। এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমার আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পৃথকভাবে শোক প্রকাশ করেছেন।