স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-২ আসনে ১১ দলীয় জোটের এনসিপি মনোনীত শাপলা প্রতীকের প্রার্থী এডভোকেট আলী নাসির খানের বিরুদ্ধে নির্বাচনী হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠলেও বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেছেন তিনি। অভিযোগ প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে আলী নাসির খান বলেন, তার এনআইডি কার্ড নির্বাচন কমিশন থেকেই ইস্যু করা হয়েছে এবং সেই এনআইডি কার্ডের সঙ্গে মিল রেখেই তিনি হলফনামায় জন্ম তারিখ উল্লেখ করেছেন, এতে কোনো ভুল হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তিনি দাবি করেন, বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া বা তথ্য গোপনের অভিযোগ সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনে দাখিলকৃত তার সব কাগজপত্র আইনসম্মত ও স্বচ্ছ, কোনো ধরনের অসঙ্গতি থাকলে তা ইচ্ছাকৃত নয় বরং দাপ্তরিক বা কারিগরি কারণে ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং নির্বাচন কমিশন ও অনুসন্ধান কমিটির সঙ্গে সর্বাত্মক সহযোগিতার কথা জানান।

মঙ্গলবার ১০ ফেব্রুয়ারি গাজীপুর-২ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী এম মঞ্জুরুল করিম রনির প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট, এডভোকেট মোঃ মেহেদী হাসান এলিস গাজীপুরের সিভিল জজ ও নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে বলা হয়, এনসিপি প্রার্থী আলী নাসির খানের হলফনামায় উল্লেখিত এনআইডি নম্বর ও জন্ম তারিখের সঙ্গে তার ট্যাক্স রিটার্নে উল্লেখিত তথ্যের অমিল রয়েছে বলে তাদের ধারণা, পাশাপাশি অনলাইন যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বর ও সোনালী ব্যাংক পিএলসি গাজীপুর কোর্ট বিল্ডিং শাখার একটি হিসাব নম্বর ব্যবহার করে নির্বাচনের জন্য আর্থিক সহযোগিতা আহ্বানের বিষয়টি বিধিবহির্ভূত।

এ বিষয়ে বিএনপি নেতা, এডভোকেট মোঃ মেহেদী হাসান এলিস বলেন, নির্বাচন কমিশনে দাখিলকৃত কাগজপত্র ও ট্যাক্স রিটার্নের কাগজপত্র পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে তারা জানতে পেরেছেন, তাই বিষয়টি তদন্তের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। একই দিন দুপুরে গাজীপুর ক্লাব লিমিটেড মিলনায়তনে গাজীপুর-২ আসনের ধানের শীষের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী সালাহ উদ্দিন সরকার সাংবাদিকদের সামনে অভিযোগের বিষয়টি তুলে ধরেন। এ সময় বিএনপি নেতা, আব্দুস সালাম শামীম, এডভোকেট সাইফুল ইসলাম মোল্লাসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে এনসিপি প্রার্থী আলী নাসির খান বলেন, তিনি আইন মেনে নির্বাচন করছেন, তার আয়কর রিটার্ন, হলফনামা ও অন্যান্য কাগজপত্র যথাযথভাবে দাখিল করা হয়েছে এবং কোনো ধরনের বেআইনি অর্থ সংগ্রহ বা আচরণবিধি লঙ্ঘনের সঙ্গে তিনি জড়িত নন। তিনি শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং ভোটারদের প্রতি উন্নয়ন ও জনস্বার্থভিত্তিক রাজনীতির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।