সামসুদ্দিন তুহিন, টঙ্গীবাড়ী (মুন্সীগঞ্জ) : মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দীর্ঘদিনের অবহেলা, বয়সজনিত ক্ষয় আর সংস্কারহীনতার কারণে এখন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। হাসপাতালের মূল ভবনজুড়ে দেয়াল, সিলিং ও করিডোর—বিস্তৃত ফাটল সৃষ্টি হয়েছে, যা দিনে দিনে আরও বড় হচ্ছে বলে জানাচ্ছেন হাসপাতালের কর্মী, রোগী ও তাদের স্বজনরা। তবুও বাধ্য হয়েই এই নাজুক ভবনেই চলছে প্রতিদিনের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম।

রোগী ও স্বজনরা জানান, চিকিৎসা নিতে এসে সবসময়ই ভাঙনের আতঙ্ক তাদেরকে তাড়া করে বেড়ায়। বিশেষ করে মহিলা ওয়ার্ড, জরুরি ইউনিট এবং বহির্বিভাগের দেয়ালে সৃষ্ট বড় ফাটল তাদের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জীবন বাঁচাতে হাসপাতালে আসি, কিন্তু ভবনের ভয়ে জীবন আরও ঝুঁকিতে পড়ে যায়।”

হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের দাবি—ভবনটির বয়স অনেক বেশি হওয়ায় নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়া এটি টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে ভবন এখন প্রায় ভগ্নদশায়, যা আগামী দিনে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার একমাত্র সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরেই অবহেলায় পড়ে আছে। জরুরি ভিত্তিতে মেরামত বা নতুন ভবন নির্মাণ না হলে চিকিৎসাসেবায় বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি বড় দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছেন।

এ বিষয়ে টঙ্গীবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল মালেক বলেন—

“ভবন ও কোয়ার্টারগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু হবে।”